ঐতিহাসিক শিব চতুর্দশী মেলা ২১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিব চতুদর্শী মেলা উপলক্ষে চন্দ্রনাথধাম মেলা কমিটির এক সংবাদ সম্মেলন সীতাকুণ্ড উপজেলা সুপার মার্কেট তৃতীয় তলায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় সনাতন সম্প্রাদায়ের অন্যতম শিব চতুদর্শী মেলার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিশ্বের সনাতন ধর্মীয় জনসাধারনের ঐতিহ্যবাহী সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ তীর্থ একটি অতি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান যা মেলা হিসেবে পরিচিত হলেও এটি মুলত ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
দেশ বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হতো বিধায় কালক্রমে এটি বিশাল মিলন মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। সুপ্রাচীনকাল থেকে শিবচতুদর্শী মেলা সুন্দর সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রথমে স্থানীয়ভাবে, পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেলা কার্যনির্বানী কমিটির এবং সর্বশেষ জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম ও সভাপতি, মেলা কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় চুড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি শিব চতুদর্শী এবং ৮-৯ ফেব্রুয়ারি দোল পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে। সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির পক্ষ থেকে ভারতের পুরী লজিং এ্যাক্ট অনুযায়ী শিবরাত্রী পূজা অনুষ্ঠানে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্রাইন কমিটির পক্ষ থেকে বৈদিক সন্মেলন আয়োজন করা হবে। মেলায় সার্বিক আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষার জন্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড সার্কেল শম্পা রাণী সাহা,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ আলম মোল্লা’র নেতৃত্বে প্রায় ৫৫০ জন পুলিশ এবং বিশেষ করে এবার মহিলা পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
এছাড়া ৩০-৪০ জন মহিলা আনসার-ভিডিপি সদস্য মেলা চলাকালীন সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবে। মেলা উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের আগমনের সুবিধার্থে তুর্ণা নিশিতা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতীসহ অন্যান্য আন্তনগর ট্রেন সমুহের যাত্রার ক্ষেত্রে সীতাকুণ্ডে ৩ মিনিট যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তীর্থের মন্দিরসহ মেলায় স্থাপিত দোকান,স্টল, বিনোদন কেন্দ্র সমূহকে অগ্নিকান্ডের হাত থেকে রক্ষা করা ও অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের জরুরী ভিত্তিতে সেবা দেয়ার জন্য মেডিকেল বোর্ডসহ ফায়ার সার্ভিস বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে পানীয় জলসহ ৩০ টি স্থায়ী -অস্থায়ী টয়লেট ব্যবস্থাপনার চেষ্টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীতাকুণ্ড বটতলী কালি মন্দির থেকে ইকোপার্ক হয়ে চন্দ্রনাথ মন্দির, বাড়বকুণ্ড ও লবণাক্ষে যাতায়াতের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতা স্বাভাবিক থাকায় এবার মেলায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পূর্ণাথীর আগমন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন কলিযুগের সব চেয়ে বড় ও প্রধান ঐতিহ্যবাহী হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিব চতুর্দশী মেলা আগামী ২১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
শিবচতুর্দশী উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পূণ্য লাভের আশায় সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামে প্রতিবছর তীর্থ দর্শন করতে ছুটে আসে। কথিত রয়েছে একজন হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষ পৃথিবীর সব তীর্থস্থান দর্শন করলেও অন্তত একবার যদি সীতাকুণ্ডে তীর্থ ভূমি দর্শন না করে তাহলে তার তীর্থ দর্শন অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এম সেকান্দর হোসাইন, এম হেদায়েত উল্ল্যাহ,মেলা কমিটির অতিরিক্ত সম্পাদক সমীর শর্মা, যুগ্ন সম্পাদক অধ্যাপক অধ্যাপক রনজিত সাহা,সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাবুল শর্মা,সহ-সভাপতি মাষ্টার প্রেমতোষ দাশ, তাপস চক্রবর্তী, পূজা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক পৌর বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাসেম ওয়াহিদী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেন,মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ছাত্রনেতা বাবু দুলাল দে, বুলবুল লালা, অলক ভট্টাচার্য, পিন্টু ভট্টাচার্য, রাজু মহাজন,সঞ্জয় চৌধুরী,পার্থ চৌধুরী ও জম্মাষ্টমী কমিটির সভাপতি বিষ্ণ চরন দাশ।
সংবাদ সম্মেলনে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে সকল রকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা ছাড়া তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য র্যাব, পুলিশ আনসার বিজিবি ও সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য সংস্থা সমুহ মেলা চলাকালীন সময় সার্বক্ষনিক সহাযোগীতা করবেন ।