চট্টগ্রামে সাংবাদিকতায় নারীরা
যে সময় চট্টগ্রামে কোনো মেয়ে সাংবাদিকতা করবে-এমনটা কেউ ভাবতেও পারেনি, সে সময় থেকে এখনো সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন শাহীন আরা বেগম। তবে মিডিয়া পাড়ায় তার পরিচিতি ডেইজী মউদুদ নামে। পরবর্তীতে এ পেশায় আরও অনেক নারী যুক্ত হয়েছেন, যোগ্যতা দিয়ে করে নিয়েছেন নিজেদের অবস্থান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে ডিগ্রিধারী ডেইজী মউদুদ রাউজানের মেয়ে। ১৯৮৬ সালে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার বার্তা বিভাগে কাজ শুরু করেন। এখনও কাজ করছেন সেখানে। ৩৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে মুখোমুখি হয়েছেন অনেক প্রতিবন্ধকতার, তবুও দমে যাননি। নারী অধিকার, পরিবেশ নিয়ে তার অনেক প্রতিবেদন প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।
ডেইজী মউদুদ বলেন, চট্টগ্রামে আমিই প্রথম নারী হিসেবে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। এখনও এই পেশাকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে আছি, থাকতে চাই আমৃত্যু।
ডেইজী মউদুদকে অনুসরণ করে বোন শামীম আর লুসি দৈনিক আজাদীতে সাংবাদিকতায় যোগ দেন ১৯৯৪ সালে। বর্তমানে পত্রিকাটিতে তিনি সিনিয়র সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় নারীদের এখন অংশগ্রহণ বেড়েছে। এই পেশায় নারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। শামীম আর লুসির সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৯৪ সাল থেকে কাজ করছেন ইয়াসমিন ইউসুফ। পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন আসমা বীথি।
দীপ্ত টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান লতিফা আনসারী রুনা। ১৬ বছরের সাংবাদিকতা জীবন তার। দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করে ‘যমুনা’ ও ‘মাছরাঙা’ টিভি হয়ে এখন ‘দীপ্ত’ টিভিতে। তিনি টিভি জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম এর সাধারণ সম্পাদক।
এছাড়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে নাসরিন জাহান সুলতানা, একুশে টেলিভিশনে শিউলি শবনম, বাংলাভিশনে শাহেদা পিয়া স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর তৃষ্ণিকা তালুকদার দৈনিক পূর্বদেশ থেকে কর্মজীবন শুরু করে এখন সুপ্রভাত বাংলাদেশে সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত। একই পদে ওই পত্রিকায় কর্মরত আছেন সাংবাদিক মাহবুবা। এছাড়া এশিয়ান টেলিভিশনে সাংবাদিকতা শুরু করে সাংবাদিক শারমিন রিমা বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন।