চট্টগ্রামে নির্বাচন অফিস সামলাচ্ছেন তিন নারী
কাজের কারণে প্রায় রাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। আর নির্বাচনের সময় এলে ব্যস্ততা বাড়ে দ্বিগুণ। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন ও পরের দিনের কর্মসূচিতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটাতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে এগিয়ে রাখেন কাজ।
নিজের কাজ সম্পর্কে এভাবে ধারণা দিচ্ছিলেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনে কর্মরত কোতোয়ালী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা তানজিদা ইয়াসমিন।
অফিসে কাজ করতে কোন বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তানজিদা ইয়াসমিন বলেন, অন্যান্য অফিসের চেয়ে এই অফিসের কর্মপরিবেশ বেশ ভালো। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই বেশ সহযোগীতা করেন। তাছাড়া নারীদের যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে অফিস থেকে। এতে আমরা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে কাজ শেষ করতে পারি।
অফিস ও সংসারের কাজে কিভাবে সমন্বয় করা হয় জানতে চাইলে তানজিদা বলেন, শাশুড়ি এবং স্বামী আমাকে আমার কাজের ক্ষেত্রে বেশ সাহায্য করেন। বিশেষ করে শাশুড়ি আমাকে পুত্রবধূ নয় নিজের মেয়ের মতোই দেখেন।
শুধু তানজিদা ইয়াসমিন নন এ অফিসে থানা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন জাকিয়া হোসনাইন ও পল্লবী চাকমা। তারা তিনজনই প্রায় একমত অফিসের কর্মপরিবেশ নিয়ে।
নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ কেমন হওয়া দরকার এমন প্রশ্নে আঞ্চলিক অফিসে কর্মরত তিন থানা কর্মকর্তা অভিন্ন সুরে বলেন, নারীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রথমেই উদ্যোগ নিতে হবে অফিস প্রধানকে। তাছাড়া নারীকে সহানুভূতি নয় সাহায্য সহযোগীতা করার মন মানসিকতা তৈরি করতে হবে সহকর্মীদের। তাহলেই নিশ্চিত হবে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, যেহেতু অফিসটি নির্বাচন কমিশন, তাই এ অফিসে একটু কাজের চাপ থাকে। অনেক সময় অফিসের কাজ শেষ করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে হয়, যা নারী কর্মীদের জন্য কষ্টের। তাই চেষ্টা করেছি অফিসে যেন কর্মপরিবেশ বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, নারীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার করার পরিকল্পনা আছে। তাছাড়া নারীরা যাতে কখনও নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে সে বিষয়টি নজরে রাখার চেষ্টা করি।