ফটিকছড়িতে নিখোঁজের তিনদিন পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানাধীন নাজিরহাট বাজারের জনতা জুয়েলার্সের মালিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী উত্তম কুমার ধর (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ডে রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ। শুক্রবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে ছিন্নভিন্ন লাশের হাতে আংটি ও পায়ের জুতা দেখে উত্তমকে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা।পরিবারের দাবি, কেউ অপহরণ করে এ স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। নিহত উত্তম কুমার ধর ফটিকছড়ির লেলাং রায়পুর ইউনিয়নের শাহনগর বণিক পাড়ার কালী কুমার ধরনের শ্রী রাম ধরের ছেলে বলে জানা যায়।
জানা গেছে, গত ৮ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার জন্য নিজ দোকান থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি উত্তম। এরপর থেকে তার খোঁজ না পেয়ে পরপদিন বুধবার ফটিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উত্তমের ভাই উজ্জল কুমার ধর। এবিষয়ে নিহত উত্তম কুমার ধরের ভাই উজ্জল কুমার ধর জানান, আমার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছি। আমার ভাই সীতাকুণ্ড যাওয়ার কথা ছিল না। কেউ অপহরণ করে ওখানে নিয়ে গেছে। পরে পরিকল্পিত ভাবে ট্রেনের নিচে ফেলে তাকে হত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে দোকান থেকে বের হয়েছিল আমার ভাই। সে শহরে একজন উকিলের সাথে দেখা করার কথা ছিল। এ ছাড়া একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করে চিকিৎসাও নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন রাতে সে আর বাসায় ফিরেনি। আমরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কোথাও না পেয়ে ফটিকছড়ি থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেছি।
পরবর্তীতে প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, বুধবার সীতাকুণ্ডের মাধবকুন্ডে মোবাইলের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আমরা ওখানেও খোঁজ নিতে যাই। বিভিন্ন মন্দির আত্মীয় স্বজন বাদ রাখিনি। বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারলাম, একটি ট্রেন এক্সিডেন্টে একজন মারা গেছে। ওনার খোঁজ নিয়ে দেখি লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। হাতের আংটি ও পায়ে জুতা দেখে সনাক্ত করি তিনি আমার ভাই। উজ্জল বলেন, আমার ভাই কোন মানসিক রোগী নয়। কেউ তাকে সীতাকুণ্ড নিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
সীতাকুণ্ডে রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের এসআই খুরশেদুল আলম বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সদর ডেবার পাড় এলাকায় রেললাইনে কাটা পড়া একব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছি আমরা বৃহস্পতিবার রাতে। রাত ৮টার দিকে ট্রেনে কাটা পড়েছিল লোকটি। লাশটি রাতেই মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শুরুতে অজ্ঞাত হিসেবে থাকলেও লাশটি ফটিকছড়ির এক জুয়েলারি ব্যবসায়ির বলে সনাক্ত করায় পরিবারকে হস্তান্তর করেছি। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা নিখোঁজ ডায়েরি নিয়েছি। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি ওই জুয়েলারি ব্যবসায়ী সীতাকুণ্ডে আছে। তবে এখন লাশ পাওয়া যায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারকেও মামলা দেওয়ার জন্য বলবো।
কেএমরা/ পিবি।