বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সড়ক দখল করে মার্কেট তৈরির অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি:
করোনা পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সড়ক দখল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি সড়ক দখল করে অস্থায়ী মার্কেট তৈরী করেছে রাস্তার উপর। এসব দোকান থেকে আবার প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজার থেকে চাঁদা আদায় করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলেছে, সড়কের উভয়পাশে ৬০ ফুট জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। পাশাপাশি, ইউএই প্রবাসী হাউজিং লিঃ এর জায়গা দখল করে বাজার প্রসস্থ করে কমপ্লেক্স তৈরী করেছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সড়ক দখল করে বাজার গড়ে তোলার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। সামাজিক দুরত্বের কোন বালাই নেই। ফলে ফুটপাত ও নালার উপর বাজার বসিয়ে করোনা ঝূঁকি বাড়াচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
এর ফলে নগরীর অক্সিজেন মোড়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে কুয়াইশ অনন্যা সড়কে চলাচলকারীদের পথ চলতে নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় সরকারি রাস্তায় ফুটপাত নালা দখল করে গড়ে উঠেছে চৌধুরী কমপ্লেক্স।
তরিতরকারীসহ নানা পণ্যের কাঁচা বাজার চৌধুরী মার্কেটের পাশাপাশি সড়ক দখল করে পসরা সাজিয়েছে ছিন্নমুল ব্যবসায়ীরা। সড়কের উপর বাণিজ্যিক কোন মার্কেট ও বাজার বসার অনুমতি না থাকলেও প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা এসব মানছেনা। ক্ষমতার দাপটে আর্থিক সুবিধা নিয়ে জনবহুল সড়ক, পথচারীদের ফুটপাত ও সাধারণ মানুষের জায়গা দখল করে বসানো হয়েছে কাঁচা বাজার ও নামে বেনামে কমপ্লেক্স ও ইমারত।
এছাড়া রাস্তার পাশে ট্রাক, ভ্যান গাড়ী ও রিক্সা রেখে যানজট সৃষ্টির কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচল কারী হাজারো মানুষ দুর্বিসহ দিন যাপন করছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে বিকেলের পর দোকান বন্ধ রাখার কথা থাকলে এ সড়কে রাত অবধি রাস্তা দখল করে বেচাকেনা চলে। পাশাপাশি সড়ক জুড়ে গাড়ি রাখায় দীর্ঘসময় যানজট তৈরী সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে হাজারো মানুষের চলাচলকারী অনন্যা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ সড়কটি।
বাংলাদেশ ইউ.এ.ই প্রবাসী হাউজিং লিমিটেড অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী শতাধিক প্রবাসীর কেনা জায়গা দখল করে চৌধুরী কমপ্লেক্স মার্কেট নির্মাণ করেছে। প্রবাসীদের প্লটের মুখটাও ঘেরাও দিয়ে দখলের চেষ্টা করছে চক্রটি। পাশাপাশি সরকারী বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে মার্কেট গড়ে ইজারা দিয়েছে চক্রটি।
স্থানীয় লোকজন জানায়, নগরীর অক্সিজেন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেচাকেনা করতে সড়কের উপর নালা ও ফুটপাত দখল করে স্থায়ী ভাবে চৌধুরী কমপ্লেক্স গড়ে তুলেন জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন ও আজম খান।
অক্সিজেন মোড়ের কুয়াইশ সংযোগ সড়কে অনন্যা সড়কের উপর ফুটপাতের রাস্তা ও পাশের সাধারণ মানুষের জায়গা দখল করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সড়ক ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠায় আশপাশের চলাচলকারী কয়েক হাজার লোক ও যান চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
গাদাগাদি করে ছোট জায়গায় ৩০-৪০ টি দোকান বসানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান,এ সড়কের অধিকাংশ অংশ জুড়ে মার্কেট তৈরী করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে হাঁটতে হয় মুল সড়ক দিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, ফটিকছড়ির মো. ইকবাল হোসেন সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ও সাধারণ মানুষের জায়গায় মার্কেট ও কাঁচা বাজার বসিয়েছে।
অক্সিজেন এলাকায় হত্যা চেষ্টা,জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্বে বায়েজিদ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ইকবাল হোসেন ২০১৩ সালে ফটিকছড়ির ভুজপুর আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী। উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নগরীর বায়েজিদ এলাকায় হত্যা প্রচেষ্টা, জায়গা দখল, হুমকিসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্বে।
আইন কে বৃদ্বাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কের উপর স্থাপিত চৌধুরী কমপ্লেক্স ও কাঁচাবাজার থেকে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকার চাঁদা তুলে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
বাজার করতে আসা গৃহিনী ইয়াছমিন আকতার জানান, শহরের অন্যান্য স্থানে কাঁচা বাজারগুলোতে সামাজিক দুরত্ব মানা হলেও অক্সিজেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ চৌধুরী কমপ্লেক্স এ সামাজিক দুরত্ব মানা হচ্ছে না। বাজার করতে এসে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ছোট বাজারে অনেক মানুষ। করোনার ঝূঁকির ভয় এখানে বেশী। প্রশাসনের কোন নজর নেই। নরক যন্ত্রনার মধ্যে দিনপাত করছেন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ ইউ.এ.ই প্রবাসী হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী প্রবাসীরা জীবনের সর্বস্ব দিয়ে কেনা ২৮ শতক প্লট শেষ আশ্রয়স্থল। ভূমি দস্যুদের কারনে দীর্ঘ এক দশক ধরে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের জায়গা দখল করে কমপ্লেক্সসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছে একটি চক্র।
এ ব্যাপারে ইকবাল হোসেন জানান ,সিডিএ সড়ক বড় করতে চাইলে তাদের মার্কেট ছেড়ে দেবে। আর প্রবাসীরা সবাই অশিক্ষিত। এরা বিভিন্ন জনের থেকে জায়গা ক্রয় করলে প্রকৃত জায়গার মালিক তিনি ও তার স্ত্রীর বলে দাবী করেন। করোনার পর তার নামে খতিয়ান হয়ে যাবে বলে জানান ইকবাল হোসেন। এর পর ইউ এ ই প্রবাসীদের উচ্ছেদ করতে সময়ের ব্যাপার বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী নগর পরিকল্পনাবিধ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, অক্সিজেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সড়কটি চউক এর নিজস্ব সড়ক। এটি শহরের সাথে কাপ্তাই সড়কের সংযোগ সড়ক। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শুরুতে এটি ১২০ ফুট থাকার কথা। এখন অর্ধেকের বেশী জায়গা বেদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারী সম্পত্তি যে কোন সময় উচ্ছেদের আওতায় আসবে। আমরা উভয় পাশে আরো ৬০ ফুট সড়ক উদ্বার করা হবে। সূত্র: বিডি টুডেস