চন্দনাইশে করোনা ঠেকাতে ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসি ও ডাক্তারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রশংসিত


উপজেলা প্রতিনিধি:

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, হাটবাজার বন্ধ রাখাসহ সবাইকে ঘরে থাকতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রশাসনের নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে বেশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন চন্দনাইশ উপজেলার চার সরকারি কর্মকর্তা। এতে জনমনে অনেকটা উৎকন্ঠা কাটিয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন।

কেননা মরণঘাতি করোনা ভাইরাস ঠেকাতে রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চন্দনাইশ উপজেলার নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিবেদিতা চাকমা, ওসি কেশব চক্রবর্ত্তী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হাসান চৌধুরী।

দায়িত্বশীল এসব কর্মকর্তাদের কর্ম তৎপরতায় চন্দনাইশ উপজেলার নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে ভীতি কমিয়ে সচেতনতায় সাহস যোগাচ্ছে। মহামারি এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট ও ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

জানা যায়, দেশে যখন করোনা পরিস্থিতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সকল হাট-বাজার, গ্রামীণ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন সড়ক-উপ সড়কে মাইকিং করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার শুরু করেন।

পাশাপাশি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন আইন না মানার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অর্থদণ্ডে দন্ডিত করে গ্রামের মানুষদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন। এছাড়াও চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক জনপ্রতিনিধিগণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ অনেকে সার্বিক সহাযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের।

বিশেষ করে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিবেদিতা চাকমা যিনি ইতোমধ্যে চন্দনাইশ উপজেলায় করোনা মোকাবেলায় নিবেদিত প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত হলেন। তাঁর কর্মতৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মত। চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয় থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত সকল হাট-বাজার, গ্রামীণ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সহকারি কমিশনার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনমূলক বার্তা প্রচার করে এবং দেশ-বিদেশ হতে ফেরত আসা ব্যক্তিদের যেখানে সেখানে ঘোরাফেরা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা শতভাগ নিশ্চিত করে ছাড়েন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ কঠোর আইন প্রয়োগ করেন। এক কথায় তার কর্ম তৎপরতার জন্য উপজেলার সর্বমহলে তিনি খুবই প্রশংসিত হয়ে উঠেন।

অপরদিকে, এ করোনা মোকাবেলায় থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্ত্তী ছিলেন একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। তিনি ছিলেন গরীব অসহায় মানুষদের পরম বন্ধু। যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতঙ্কিত তখন ওসি চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন। করোনা মোকাবেলায় চন্দনাইশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল টিমের মধ্যদিয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.