কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটায় নালা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ!
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী রক্ষায় সরকার যখন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঠিক তখনই সরকারি নালা ভরাট করে জায়গা দখলে নিয়ে বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণফুলী উপজেলার ১নং (খ) চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তোতার বাপের হাটের পশ্চিমে কালা মিয়া বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। যেখানে নালা ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার চরপাথরঘাটার এলাকার শেখের বাড়ির মনছফ আলী ও আরো কয়েকজন মিলে রাতারাতি শ্রমিক লাগিয়ে সরকারি খাস সম্পত্তির নালার মুখ মাটি ফেলে ভরাট করে ঘর তুলছেন। এর ফলে দীর্ঘ ৫০/৬০ বছরের নালাটির পানি চলাচলের প্রবাহ বাঁধা হয়ে পড়ছে এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় সংকট সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাবে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাবেক জনপ্রতিনিধি মো. মুছা। এমনকি নালা ভরাটের কারণে সেখানে সরকারি বরাদ্দের অর্থে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ কাজও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নালা হঠাৎ মাটি ফেলে বন্ধ করায় পানি চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, আগে যে নালা ছিলো ৮/১০ ফুট, তা ভরাট করতে করতে কয়েক ইঞ্চিতে নিয়ে এসেছে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে মাটি ভরাট করে সরাসরি নালার উপর দেয়াল তুলে ঘর তৈরি করছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান তা দেখেও যেনো দেখছেন না।
এলাকার সাধারণ জনগণ প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস না পেলেও চরম চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে অনাকাংকিত ঘটনা। স্থানীয় মুরুব্বী জাফর ও মোবারক আলীসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাঁরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
জানা যায়, চরপাথরঘাটার দীর্ঘ এই নালা দিয়ে দুই ও তিনটি ওয়ার্ডের (প্রায় সাড়ে তিন কি.মি নালা) মানুষেরা তাদের ব্যবহার্য পরিত্যক্ত পানি ও ময়লা আবর্জনা সমূহ ফেলে থাকেন। যা পানির স্রোতে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ত। এ নালা সরকারি খাস সম্পত্তি বলে জানা যায়। অথচ জোলার মুখে মাটি ফেলে ভরাট করে সেখানে ঘর তুলে জায়গা দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোনাফ জানান, ‘স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানানোর পর সকালে আমি ঐ জায়গায় গিয়ে দেখি ঘটনা সত্য। নালা ভরাট করে দেয়াল তুলে ঘর তৈরি করছেন। আমি তাদের নিষেধ করলে তারা তাদের জায়গায় ঘর করছেন জানালে আমি চলে আসি।’

জানতে চাইলে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ জানান, এটা সামান্য বিষয় আমি তাদের রিং করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। নালা ভরাট করে ঘর তুলে সরকারি জায়গা দখল অবৈধ কাজ। অপরদিকে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার রিং করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নোমান হোসেন জানান, সরকারি জায়গা ভরাট করে দখল নেয়া হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এক্ষুনি খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।