বেড়েছে বন্য হাতির উৎপাত আতংকে আনোয়ারাবাসী
আনোয়ারা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে থামছে না বন্য হাতির তাণ্ডব। দেয়াং পাহাড় সংলগ্ন বৈরাগ, গুয়াপঞ্চক, বন্দর, মহাদেবপুর, হাজিগাঁও, কেইপিজেড এলাকায় প্রতিরাতে পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে এসে হানা দিচ্ছে বন্য হাতির দল। এসব এলাকার বাসিন্দারা হাতি আতঙ্কে রাত যাপন করছে।
দেয়াং পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া বন্য হাতিগুলো সন্ধ্যা নামলেই লোকালয়ে নেমে এসে গাছপালা উপড়ে ফেলছে, ভাঙ্গছে স্থাপনা এবং ক্ষতি করছে ফসলের। হাতির তাণ্ডব থেকে বাঁচার জন্য প্রতিরাতেই মশাল জ্বালিয়ে, ফটকা ফাটিয়ে, সার্চ লাইট ব্যবহার করে হাতির আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয়রা।
গত সোমবার রাতে বন্য হাতির আক্রমণে দেবী রানী দে (৪৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিলা উত্তর গুয়াপঞ্চক গ্রামের হিন্দুপাড়ার ডাক্তার অরুন কান্তি দে এর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে দেয়াং পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে এসে বন্য হাতি বাড়ির আশেপাশে তাণ্ডব চালালে ভয়ে তাড়াহুড়ো করে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘর থেকে বাহিরে হয়ে রাস্তায় চলে যায়। পরে দেবী রাণী ঘর বের হয়ে যাওয়ার সময় হাতির পায়ে পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এদিকে বন্য হাতিগুলো দুই বছর ধরে দেয়াং পাহাড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে এলাকায় ক্ষতিসাধন করে যাচ্ছে।স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগকে লিখিত ভাবে বার বার জানানো হলেও হাতিগুড়ো তাড়ানোর জন্য কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দেয়াং পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া বন্য হাতিগুলো ঘুম হারাম করে দিয়েছে এলাকাবাসীর। সন্ধ্যা নামলেই হাতিগুলো নেমে আসছে লোকালয়ে। এতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ককের মধ্যে থাকে দেয়াং পাহাড় সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার জনসাধারণ। গুয়াপঞ্চক গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদুল ইসলাম জানান, আর কত প্রাণ গেলে বনবিভাগের টনক নড়বে, মানুষের দাম কি হাতির চেয়ে কম।
কোরিয়ান শিল্প জোনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান জানান, বন্য হাতির তান্ডবে কেইপিজেড এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব বৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিরাতে হাতিগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বাগানের গাছপালা উপড়ে ফেলা সহ নানাভাবে ক্ষতি করে চলেছে। রাতে তাদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কারখানার নৈশ্য প্রহরীরা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। গত বছরও কয়েকজন মারা গেছে হাতির আক্রমণে। বিষয়টা বনবিভাগকে জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা হবে।
হাতিগুলো তাড়ানোর বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছর আমরা ১০টি ইআরটি টিম গঠন করেছি। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। হাতি যখন লোকালয়ে আসবে তখন তাড়ায় দিবে। কিন্তু হাতিগুলো একেবারে এখান থেকে তাড়িয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার পন্থা নেই বলে উপজেলা প্রশাসনকে বনবিভাগ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। যার কারণে হাতি তাড়ানো যাচ্ছে না ফলে হঠাৎ করে হাতির আক্রমণে লোকজন মারা যাচ্ছে।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, হাতি তাড়ানোর বিশেষ কোন পন্থা তাদের জানা নেই। পাহাড় থেকে হাতি নামলে সেগুলো নানা পরিকল্পনায় পাহাড়ে তুলে দেওয়া যায়। এ অবস্থায় বিকল্প হিসাবে ‘ঘেরাবেড়া’ দিয়ে লোকালয়ে নামার পথ বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। তবে জোরজবরদস্তি করে হাতির সঙ্গে কিছু করা সম্ভব নয়।