চট্টগ্রামে ১৪ দল পূর্ণ শক্তি নিয়ে রাজপথে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৈরাজ্য প্রতিহত করবে: সুজন
১৪ দল চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৪ দল চট্টগ্রাম মহানগর এর সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম ১৪ দলের অস্তিত্ব ঝিমিয়ে পড়েছিল, সেই অস্তিত্বটা আবার পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোকে নিয়ে আবারো মাঠে নামতে চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা অনুযায়ী চট্টগ্রামে ১৪ দলের অস্তিত্বের পুনরুদ্ধার আজ থেকে আবারও শুরু হলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ১৪ দল পূর্ণ শক্তি নিয়ে রাজপথে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৈরাজ্য প্রতিহত করবে।
শুক্রবার (২৬ মে) বিকেলে নগরীর দারুল ফজল মার্কেটস্থ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ১৪ দল চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক কমিটির প্রথম সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
১৪ দলের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে সংগঠনগুলো আছে তাদেরকে নিয়ে ১৪ দল আবার জাগ্রত হয়েছে। এই জাগরণের মূল ইস্যু হচ্ছে দেশকে রক্ষা করা, ভালবাসা এবং যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি তাই মুক্তিযুদ্ধে সপক্ষে আবার একটি চ্যালেঞ্জ এসেছে। একারণে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে এক মঞ্চে দাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে একটি কঠিন সংকল্প নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই লড়াইয়ে জিততে হলে এখনই মাঠে নামতে হবে।
চট্টগ্রাম ১৪ দলের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজনের সভাপতিত্বে ও জাসদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ১৪ দল আমাদের একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক শক্তি, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী। একটা বিষয় লক্ষণীয় যে আমাদের শরীক দলগুলো আন্দোলন কর্মসূচীতে মাঠে তত তৎপর নয়। এই শরীক দলগুলোর থানায়, ওয়ার্ডে তাদের সাংগঠনিক অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, প্রগতিশীল দলগুলো যারা আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি তাদেরকে ধর্মীয় যেসকল সংগঠন ও জোট আছে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অস্তিত্বে বিশ্বাসী তাদের সঙ্গে যোগ সূত্রতা রক্ষা করতে হবে। সরকারী প্রণোদনা প্রাপ্ত যেসকল মসজিদে ঈমাম যারা আছেন তারা কি আদৌ বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে কি না তাদের খোঁজ খবরটাও আমাদের নিতে হবে। এরা সরকারি প্রণোদনায় বেনিফিসিয়ারী, কিন্তু আদৌ বাংলাদেশের অস্তিত্বকে তারা বিশ্বাস করে না তাদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদ, জাসদ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ওভীক ওসমান, ওয়ার্কাস পার্টির অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, ন্যাপ চট্টগ্রাম এর গাজী আলমগীর, তরিকত ফেডারেশনের মোর্শেদ আলকাদরী, গণ আজাদী লীগের মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী, সাম্যবাদী দলের অমূল্য বড়–য়া, ন্যাপ চট্টগ্রাম এর ফয়জুল্লাহ মজুমদার, গণতান্ত্রিক পার্টির বাবু স্বপন সেন।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. সুনীল কুমার সরকার, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ওয়ার্কাস পার্টির শরীফ চৌহান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, ন্যাপ এর সমীরন দাশ, জাসদের নৃপ্রতি রঞ্জন বড়–য়া, বেলায়েত হোসেন, মোঃ মফিজুর রহমান প্রমুখ।