নৌকা প্রতীক প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র চশমা প্রতীক প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন


চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলাধীন ১নং চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোহাম্মদ সোলায়মানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার ছিড়ে ফেলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র হতে চশমা প্রতীক চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চশমা চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের দ’বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান। আমি প্রথমবার ২০১১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি জনগণের মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমি বর্তমানে চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোহাম্মদ সোলায়মান নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার লক্ষ্যে এলাকার কিছু উশৃঙ্খল বখাটে কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন মামলার আসামীদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছে। তারা প্রতিনিয়তে মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কায়দায় শোডাউন দিয়ে এবং প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটারদের ও তার কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে জানান।

এসময় তিনি আরও বলেন, তারা ভোটকেন্দ্র দখল, জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে সিল মারার হুমকি দিচ্ছে। ইতি মধ্যে তারা আমার একজন সমর্থক ৩নং ওয়ার্ডের শরীফ আলীর পুত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ছুরিকাঘাত করেছে। পরবর্তীতে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমার পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। আমার নির্বাচনী প্রস্তাবকারী মনিরুল ইসলাম এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট দাখিল করেছে।আমি নিজে বাদী হয়ে এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছি। বর্তমানে আমার ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দগুলো হচ্ছে, ৬নং ওয়ার্ড ফারুক আজম এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ২নং ওয়ার্ড চরফরিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯নং ওয়ার্ড জোনাকি স্কুল, ৪নং ওয়ার্ড সিরাজুল মুনির গাউছিয়া দাখিল মাদ্রাসা। এই ভোটকেন্দ্র গুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিশ্বাসী না হয়ে তিনি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সন্ত্রাসী কায়দায় ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ভোট নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে যেকোনো মুহুর্তে নির্বাচনের দিন কিংবা নির্বাচনের পূর্বে আমার নির্বাচনি এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দলের ও বংশের সন্ত্রাসীদের দ্বারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী। ফলে ভোটারগণ ভয়ভীতি ও আতংকের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বহিরাগত লোকজন নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক দফা শোডাউন দিয়েছে। এতে আমার এলাকায় ভোটারসহ আমি নিজে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি শুভ দৃষ্টি কামনা করছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মোঃ নুরুল আলম, মোঃ ইউনুস, মোঃ নাছির, আ ন ম মনির, মোঃ মনির আহমদ, মোঃ আলী, আলহাজ্জ্ব আবুল কালাম, হারুন সওদাগর ও নুর ইসলাম।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.