করোনা মহামারীতে সিএমপি’র মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের যতো উদ্যােগ


কে এম রাজীবঃ করোনা মহামারী কালীন কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার লক্ষ্য মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাশে এসে দাড়িয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে এসে জরুরী ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, সেহরি ও ইফতার বিতরণ, থানায় থানায় অক্সিজেন ব্যাংক সার্ভিস, জরুরী এম্বুলেন্স সার্ভিস প্লাজমা দান ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দর নগরীর জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে সিএমপি।পাশাপাশি এই সকল মানবিক কার্যক্রমে নিজস্ব অর্থায়নের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজের নানা স্তরের বিত্তশালী লোকজন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল বিদ্যানন্দ ফাউন্ডশনের সহায়তায় পাহাড়তলী থানাধীন বিটাক মোড়ে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপিত করা। যা করতে সক্ষম হয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে জনগণকে সুরক্ষায় সিএমপি ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে দ্বিতীয় বারের মত এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। জনগণের অর্থায়নে নির্মিত এই হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করোনা পজেটিভ রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য উপসর্গের রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয় করোনা টেস্ট। এতে ১ জন অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টের অধীনে ৮ জন দক্ষ চিকিৎসক, ১২ জন নার্স ও ৫০ জনের অধিক স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে গঠিত টিম রয়েছে রোগীদের সার্বক্ষনিক চিকিৎসার দায়িত্বে। এছাড়াও টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ চিকিৎসকগণ। ৭০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রতিটি বেডে রয়েছে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২৪ টি বেডে রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম। ৩ টি বেডে সংযুক্ত রয়েছে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের পক্ষ থেকে আক্রান্ত রোগীদের দৈনিক ৪ বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোগীদের যাতায়াতের জন্য সার্বক্ষনিক ভাবে প্রস্তুত রয়েছে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশাপাশি নগরীর সকল জনসাধারণও এই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

আরও গড়ে তোলা হয়েছে অক্সিজেন ব্যাংক কার্যক্রম।

যেখানে দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা ভাইরাস দ্রুত সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যাক্তির ফুসফুসে সংক্রমিত হয়। এতে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। যথাযথ সময়ে অক্সিজেনের সরবরাহ না থাকায় আক্রান্ত ব্যাক্তি মৃত্যুবরণ করছে। বিষয়টি বিবেচনা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এর নির্দেশে প্রতিটি থানায় অক্সিজেন ব্যাংক গড়ে তোলার উদ্যোগ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুততম সময়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে অক্সিজেনের যোগান দেয়া। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত যে কোন ব্যাক্তির জরুরী প্রয়োজনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নগরীর যে কোন থানা থেকে অক্সিজেন সরবরাহ পাচ্ছেন। অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের মাধ্যমে সেই সিলিন্ডার প্রয়োজনমত রি ফিল করা যাচ্ছে।

কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রয়েছে বিনামূল্যে সেহেরি ও ইফতার শপ।

পবিত্র রমজান মাসে নগরীর খেটে খাওয়া ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নগরীর ডাবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সেহেরি ও ইফতার শপ। নগরীর দুস্থ মানুষ জনের সুবিধার্থে এই শপ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে সেহেরি ও ইফতার। প্রতিদিন হাজারখানেক অসহায় ও দুস্থ মানুষজনকে এই শপ থেকে এই সেহরি ও ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। অনাহারী মানুষজনের জন্য এটি হয়ে হয়েছে একটি নির্ভরতার স্থান।

এতে আরও রয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সিএমপি’র সেহরি ও ইফতার বিতরণ কার্যক্রম।
দেশের অসহায় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তাদের এই উদ্যোগকে সফল করতে দেশের অন্যান্য সংগঠনের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা সরাসরি অংশগ্রহণ করছে নগরীর খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে সেহরি ও ইফতার বিতরণ কার্যক্রমে। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসেছে তারা। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সেহরি ও ইফতার বিতরণ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকায় ছিল এই পুলিশ সদস্যরা।

করেছেন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম।

করোনাকালীন সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া জনসাধারণের মাঝে নিয়মিতভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। আর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে সমাজের নানা স্তরের জনসাধারণ। উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম ও বন্দর; এই চারটি বিভাগের অধীনে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে উক্ত এলাকায় বসবাসরত সর্বমোট প্রায় ২০ হাজার দরিদ্র পরিবারকে এরই মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে রাতে রাতে প্রতিটি ঘরে গিয়ে এই সকল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অব্যহতভাবে এ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করছে এক টাকায় ঈদের শপিং কার্যক্রম। ঈদ-উল-ফিতর কে সামনে রেখে সমাজের ছিন্নমূল মানুষের ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক টাকার ঈদ শপিং কার্যক্রম। জাতি ধর্ম বর্ণ অর্থ বিত্ত নির্বিশেষে সকলের মাঝে ঈদ আনন্দকে ছড়িয়ে দিতে বন্দর নগরীর রাজাখালীর রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। যাকাত কিংবা দান নয়, নিজেদের সামর্থ্যের টাকায় ছিন্নমূল মানুষজন ঈদের পোশাক কিনে নিতে পারছেন। শিশু কিশোর তরুণ বয়স্ক সকল বয়সের মানুষের জন্যই ছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি’র) মানবিক পলিশিং কার্যক্রমের এই আয়োজন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.