৫৫ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিলো চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ
জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ৫৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মরণোত্তর তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ।
আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালামের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) শাব্বির ইকবাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়।আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধা কাউন্সিল রয়েছে তারা ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। বেলারুশের উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যখন হিটলার বাহিনী আক্রমণ করে ছিল, বিভিন্ন স্থাপনা ধধংস করে ছিল, সে দেশের সরকার সেগুলো আজ সংরক্ষণ করেছে। আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ভিজিটররা যায় সে গুলো দেখার জন্য।আমাদের দেশে এ রকম বিভিন্ন জায়গা স্থাপনা রয়েছে সেগুলো আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে আগামী প্রজন্ম এসব দেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে।
তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আমাদের কথা শুনেন না। তিনি কয়দিন পর পর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই নিয়ে থাকেন।স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে যদি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন প্রশ্নে সম্মূখিন হতে হয় সেটা খুবই দুঃখজনক। ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা হলেও ৭ ই মার্চ প্রকৃত স্বাধীনতা দিবস বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে হবে আমাদের। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদানকে স্বরণীয় করে রাখতে হবে।মহান মুক্তিযু্দ্ধে হাজার বছরের স্রেষ্ট বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্বরণ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাঙালি জাতি কখনো স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ ই মার্চ ভাষণের মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতিকে প্রেরণা এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কে ধরে রাখতে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধাদের কে সম্মাননা জানাতে হবে, স্মৃতিসোধ নির্মাণ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম মুক্তি যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানে না। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামাত সরকার যুদ্ধপরাধী আবদুল আলিম, আলী আহসান মোজাহিদদের মত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চেষ্টা করেছে। তারা সফল হতে পারেনি পারবেও না। জেলা পরিষদ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সে লক্ষে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জেলা পরিষদের সচিব মো. রবিউল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, সাবেক গণপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আবু মনসুর, যুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. মঈনুদ্দিন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস।
অনুষ্ঠান শেষে ৫৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মরণোত্তর তাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।