চলছে সার্কাস; দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগে এক পদ নিয়ে দু’নেতার লড়াই!


জে.জাহেদ, সিনিয়র রিপোর্টার:

সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ২৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৩৫ জন সহ-সম্পাদক পদের তালিকায় মোস্তাক আহমেদ এর একটি নাম উল্লেখ রয়েছে। সহ-সম্পাদকের এই পদ নিয়ে দুই মোস্তাকদের মধ্যে যেন চলছে লড়াই!

দুজনই নিজেকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে ‘সহ-সম্পাদক’ পদ পেয়েছেন দাবি করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুজনেই ফেইসবুকে কমিটির ‘সহ-সম্পাদক’ নির্বাচিত হলেন এমন স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

বাহারি স্ট্যাটাস দেখে দুজনকেই আবার ফেইসবুকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাদের শুভকাংখী ও বন্ধু বান্ধবরা। এ নিয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগে চলছে মিশ্র সমালোচনা।

যদিও দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও একই ‘মোস্তাক আহমদ’। কমিটিতে আসল ‘মোস্তাক আহমেদ’। তাহলে কে প্রকৃত ‘সহ-সম্পাদক’ নির্বাচিত হয়েছেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি যেন কাটছে না।

এই দুই দাবিদারের একজন হচ্ছেন, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের। অন্যজন হলেন সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। সবচেয়ে মজার তথ্য হলো-এক পদ কিন্তু দুই নেতার দাবিদারের একজন হলেন সদ্য ঘোষিত দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিনের অনুসারী এবং আরেকজন হলেন একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের এর অনুসারী।

জানা যায়, ৪ মার্চ দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর পরই সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে সাতকানিয়ার মোস্তাক আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেইসবুকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকের ছবিসহ পোস্টে লিখেন, “অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্য-নির্বাহী সংসদের বিপ্লবী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কে দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর পরীক্ষার পরে দক্ষিণ চট্টলার ছাত্রলীগ কর্মীরা পেলো নিজেদের দলীয় পরিচয়।’

অন্যদিকে একই দিন বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে আবার কর্ণফুলীর মোস্তাক আহমেদ (মুন্না) নিজের ফেইসবুকে স্টার্ট এ নিউ জবে নতুন পদবি সংযুক্ত করলেন ‘সহ-সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখা’। এর পরেই তারা দুজনে স্ব স্ব এলাকায় সংবর্ধনা নিলেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে। এ নিয়ে কিছু পোর্টালে আবার সংবাদ ও প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে সাধারণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কোন মোস্তাক’কে তাহলে প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ‘সহ-সম্পাদক’ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সহ-সম্পাদক দাবি করা সাতকানিয়ার মোস্তাক আহমেদ বলেন, এসব কান্ড দেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিতেও লজ্জা লাগে এখন। দীর্ঘদিন ছাত্র-রাজনীতি করে আসতেছি। বাজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলাম। এমনকি যেদিন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেদিন সকালেই সভাপতি (বোরহান ভাই) ফোন করেই জানালেন আমি ‘সহ-সম্পাদক’ নির্বাচিত হয়েছি। এরপরেও যদি কেউ ‘সহ-সম্পাদক’ দাবি করে তাহলে আমার করার কিছু নেই।’

জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিবাহিত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, রাজনীতিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের একটি এন্টি গ্রুপ আছে। ওরাই আমার ফেইক ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও আমাকে বিবাহিত বলে নিউজ করেছে যা সত্য নয়।

অপরদিকে কর্ণফুলীর মোস্তাক আহমদ (মুন্না) বলেন, ‘যখনই শুনেছি আমার নামে নাম আরো একজন ‘সহ-সম্পাদক’ দাবি করেছে তখন আমিও বেশ মর্মাহত। কেনোনা যিনি দাবি করছে ও কিন্তু আমার অনেক সিনিয়র ভাই হবেন। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা মেবি পঞ্চম শ্রেণি, বয়স ৩৭ বছর। অথচ ৩০ বছর থেকে একদিন বেশি হলেও ছাত্রলীগ করতে পারেনা। সবচেয়ে বড় কথা ‘সহ-সম্পাদক’ পদে কমিটিতে আসা নামটি যে আমার সেটা আমাকে প্রথমেই জানিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক (তাহের ভাই) নিজেই।’

এমন বির্তক বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতি জানান, ‘আমি বলব এসব বির্তকের জন্য মূল দায়ী কমিটির সভাপতি-সম্পাদক। তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য এসব বিচিত্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনেকরি কেন্দ্র নয় বরং দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক এক হলে এটা একদিনেই সমাধা হয়ে যাবে।’

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের জানান, কে প্রকৃত পক্ষে ‘সহ-সম্পাদক’ সেটা এখন বলা যাবে না। কেনোনা মফস্বল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং থাকে। কে কোন দিকে কার রিকুষ্ট এ পদ পেয়েছে সেটা বলা মুশকিল। তবে আমরা এ সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে দ্রæত কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে সমাধা করে নেব। তখন কেন্দ্র প্রকৃত পদ-পদবি পাওয়া নেতাকর্মীদের চিঠি দিয়ে অবগত করবেন।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন জানান, ‘সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের মোস্তাক আহমদ হলেন আসল। যদিও শিকলবাহার অন্য মোস্তাক আহমদ মুন্না ও আমাদের সংগঠনের। কিন্তু এখন দুজনের নাম একই হওয়াতে সমস্যাটা হচ্ছে। আমরা কয়েকদিন পরেই ঢাকা যাচ্ছি। ঘোষিত কমিটিতে এ ধরনের কিছু সমস্যা রয়েছে। আমরা তা কেন্দ্রের সাথে বসে ঠিক করে নেব। এটা জটিল কোন বিষয় নয়।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২১ বছর পরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করা হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। আগের ৫১ সদস্যের এই কমিটিকে ২৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। কমিটিতে এস এম বোরহান উদ্দীন কে সভাপতি ও মো. আবু তাহের কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.