গ্রাম বাংলার পাখির অস্থিত্ব প্রায় বিপন্ন!
এক সময় পাখির কলকাকলিতে বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙত। এখন গ্রাম বাংলায় আর আগের মত পাখির ডাক শোনা যায় না। গ্রাম বাংলার প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পাখির আবাসস্থল ধ্বংস, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবে পাখির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় পাখি দোয়েল, ঘুঘু, ভাওয়াইয়া, শালিক, টুনটুনি, কাঠঠোকরা, ফিঙে, ডাহুক, ক্যাচকেচি, বাবুই, মাছরাঙা, বটর, টেইটেরা, ঘুমড়া, প্যাঁচা সহ আরো অনেক পাখি এখন আর সহজে দেখা যায়না। শোনা যায়না এসব পাখির মধুর ডাক।
আগে দিনের শেষে সন্ধ্যা নামার সময় ও ভোরে সূর্য ওঠার আগে পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠত গ্রাম বাংলার প্রকৃতি। প্রকৃতি থেকে দিন দিন কমে আসার কারণে বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশু-কিশোরই চেনেনা এসব পাখি।
অনেকেই এসব পাখির ডাকও শোনেনি কোনদিন। ফলে শিশু-কিশোরদেরপ কাছে দিন দিন এসব পাখি হয়ে যাচ্ছে ইতিহাস। এমনকি আমাদের জাতীয় পাখি বইয়ে অথবা ছবিতে দেখে পরিচিত হয় শিশু-কিশোরেরা।
চন্দনাইশ সদরস্থ দক্ষিণ পূর্ব জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রসহ একাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা অনেকে দোয়েল দেখেননি বলে জানান। তারা বইয়ের পাতায় আঁকা ছবি দেখে জাতীয় পাখি দোয়েল চিনেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকেরা এখন বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে সর্বদাই কীটনাশক ঔষুধ প্রয়োগ করেন। এতে করে পাখির খাদ্য ফড়িং, ফুতি, প্রজাপতি, মশা, লেদাপোকা, গোয়ালি সহ বিভিন্ন প্রকার কীটপতঙ্গ মরে যায়, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। পাখিরা বিষাক্ত এসব পোকামাকড় খেয়ে মারা যাচ্ছে দিনের পর দিন। মূলত এ কারণে কমে আসছে পাখি।
চন্দনাইশে ৭০ বছর বয়সী কৃষক আহমদ হোসেন জানান, আমরা আগে জমিতে ঔষুধ দেয়নি, তখন দিনভর ফসলের মাঠে নাচানাচি করত হরেক রকমের পাখি। এখন আর মাঠে এসব পাখি দেখা যায়নি।
পাখি শিকারের বিষয়ে একটি আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অনেকেই অবলিলায় পাখি শিকার করছে। পাখির সংখ্যা কমার এটিই অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন কৃষকেরা।