চন্দনাইশে খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে গতি নেই


চন্দনাইশ উপজেলায় সরকারী ধান কেনা শুরুতে প্রথম ধাপে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ মাত্র ১’শ ৫০ টন ধান কিনতে পেরেছে। লক্ষ্যমাত্রায় এ বছর ধান ক্রয় করার কথা ছিল ১ হাজার ৫০ টন। ধান কিনা কম হওয়ার পেছনে কৃষিবিভাগের গাফলতি, কৃষকদের নিকট থেকে মাত্র ১ টন করে ধান ক্রয় করাসহ বিভিন্ন কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলায় ধান কেনা শুরু হয়েছে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে। লটারীর মাধ্যমে উপজেলার তালিকাভুক্ত ৮’শ ৩৪ জন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি সরকারি ভাবে ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান ১ হাজার ৪০ টাকা মূল্য দরে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এ সংগ্রহ কার্যক্রম ২০২০ সালের ২৮ শে ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু দেড় মাস আগে চন্দনাইশের কৃষকদের গোলায় ধান উঠলেও সরকারী খাদ্য গুদামগুলো কৃষকদের কাছ হতে ধান কিনতে পাচ্ছে না।

১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে ৪৩ দিনে মাত্র ১’শ ৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেছে খাদ্য বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ধান সংগ্রহ কম হচ্ছে কেন তা অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা অনিয়মের চিত্র। অনেক কৃষক জানে না তাদের নাম কৃষকদের তালিকায় রয়েছে। আবার অনেক কৃষকদের ধান দেয়ার মতো সামর্থ নেই। প্রতিজন কৃষক থেকে মাত্র ১ টন করে ধান সংগ্রহ করছে খাদ্য বিভাগ। ফলে যানবাহন খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ না দেখার কারণে অনেক কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছে না। তাছাড়া ৮শ ৩৪ জন কৃষকের তালিকার মধ্যে ১’শ ৫১ জন মহিলা কৃষক রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ২ জন কৃষক সরকারের খাদ্য গুদামে ধান দিয়েছে। গ্রামের বাজারে কৃষকরা সহজে ধান বিক্রি করতে পারলেও ধানের অর্ধেক হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দোহাজারী খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, গুদামে ধান আসার মাত্রা খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কেনার গতি না বাড়লে নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ধান বিক্রিতে অনাগ্রহের কারণ জানতে কথা হয় বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত কৃষকের সঙ্গে। তাঁদের একজন মাসুদ পারভেজ জানালেন তিনি তালিকাভুক্ত কৃষক। তিনি বলেন, চন্দনাইশ সদর পূর্ব জোয়ারা থেকে দোহাজারী খাদ্য গুদামে ১টন ধান আনতে যে যানবাহন খরচ যায়, ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছে বলে জানান।

তাই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। হাশিমপুর গ্রামের তালিকাভুক্ত কৃষক আহমদ হোসেন বলেছেন, সরকার চন্দনাইশের ৩৩ হাজার কৃষকদের মধ্য থেকে মাত্র ৮শ ৩৪ জনকে লটারীর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করেছেন। এদের মধ্যে ১’শ ৫১ জন মহিলা কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করলেও মাত্র ২ জন সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেছেন।

এ ব্যাপারে দোহাজারী খাদ্য গুদামের ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, সোমবার পর্যন্ত তার গুদামে মাত্র ১’শ ৫০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত আমন ধান সংগ্রহের সময় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে বোরো ধান সংগ্রহের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। অপরদিকে খাদ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেছেন চলতি মৌসুমে লটারীর মাধ্যমে চন্দনাইশে ৮’শ ৩৪ জন কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও ধান কম নেওয়ার কারণে কৃষকেরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছে না। তাই চলতি সপ্তাহে প্রতিজন কৃষক থেকে ২ টন, পরবর্তী সপ্তাহে ৩ টন করে ধান সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ১ একর ৪৮ শতক জমির উপর ব্রিটিশ শাসন আমলে চন্দনাইশে দোহাজারীতে ৫’শ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট ৩টি গুদাম নির্মাণ করা হয়। সেই সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বান্দরবান পর্যন্ত ১০টি থানার জন্য এই গুদামটি ব্যবহার করা হতো। এই সকল গুদামে সর্বোচ্চ ১৮’শ মেট্রিক টন পর্যন্ত খাদ্য রাখার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান। ১৯৯৭ সালে ১ম বারের মত গুদামগুলো সংস্কার করা হয়। বাউন্ডারি ভাঙ্গা থাকার কারণে মার্কেটের ময়লা আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। অনায়সে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে খাদ্য গুদামের ভিতর দিয়ে। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ২৬ টাকা। কেনার ক্ষেত্রে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ ধানের আদ্রতা নির্ধারণ করেছে ১৪ শতাংশ।

এ ছাড়া বিজাতীয় পদার্থ পয়েন্ট ৫ শতাংশ, ভিন্ন জাতের মিশ্রণ ৮ শতাংশ, অপুষ্ট ও বিনষ্ট দানা ২ শতাংশ ও চিটা দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হলেও ধান ক্রয়ে কোনো বাধা থাকবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেছেন ইউনিয়ন ওয়ারী দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে ধান বিক্রির জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা দ্রুত ধান গুদামে বিক্রি করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি আ.ন.ম বদরুদ্দোজা বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের বলে দিয়েছি কৃষকদের সঙ্গে যোগযোগ করে দ্রæত ক্রয়ের জন্য। ধান সংগ্রহ কম হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহী করতে প্রতিজন কৃষক কাছ থেকে চলতি সপ্তাহে ২ টন আগামী সপ্তাহে ৩ টন করে ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন কৃষকের সংখ্যা বাড়ানোর


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.