নগরীর স্কুল বাসে শিক্ষার্থীদের নানা দূর্ভোগ


নগরীর বিভিন্ন রোডে চালু হওয়া স্কুল বাসে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও পেশাজীবিরা সুবিধা নিচ্ছেন। 

পেশাজীবী সুবিধাবঞ্চিতদের কারণে শিক্ষার্থীরা বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার বাসে উঠার জায়গা না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলো অনেক শিক্ষার্থী। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয় কমাতে নেয়া এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন সমাজের সুধিজনরা।

পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীদের বাসের সিটে বসে থাকা কালুরঘাট শিল্প এলাকার বেইস টেক্সটাইলের অফিসার খালেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ বাস সংকটের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের বাসে চড়ে বসেছি।

অন্যদিকে খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মুন্নি বলেন, ‘অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের জন্য আমরা (মেয়েরা) গাড়িতে খুব অনিরাপত্তা বোধ করি।’ অপরদিকে অভিভাবকরা বলছেন অন্যকথা। খাস্তগীর স্কুলের অভিভাবক সালমা বেগম বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে মেয়েকে একা ছাড়তে পারিনা। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে স্কুল বাসে মেয়ের সাথে যাতায়াত করছি।’

সোমবার (২৭ জানুয়ারী) দুপুর আনুমানিক ১২টায় আন্দরকিল্লা মোড়ে সরজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং কিছু পেশাজীবি মানুষ স্কুল বাসে উঠছে।

শিক্ষার্থীদের বাসে অভিভাবক ও পেশাজীবীদের যাতায়াত প্রসঙ্গে এডভোকেট অনুময় বড়ুয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাসে অন্য যাত্রীর উঠার ব্যাপারটা আমি আজ সকালে দেখলাম, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা না দিয়ে অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণ গাড়িতে বসে আছেন। আমাদের সবার উচিত সচেতন হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা।’

সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ফরহান বলেন, ‘বাস চালু হবার পর দুই-এক দিন নিয়মকানুন ঠিক থাকলেও এখন অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ আমাদের বাসগুলোতে যাতায়াত শুরু করেছে। বাসে অন্য যাত্রীর কারণে আমাদের বাসে জায়গা পেতে কষ্ট হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক জাফর আহমেদ জানান, বাচ্চা এখনো ছোট। তাই নিরপত্তার খাতিরে বাসে করে যাচ্ছি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সেন বলেন, ‘বাস চালু হওয়ায় আমি অনেক খুশি, কিন্তু অভিভাবকদের অনুরোধ করব শিক্ষার্থীদের বাসে না উঠার জন্য। বাসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। ‘ তাই দুশ্চিন্তা না করে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রসাশক ইলিয়াস হোসেনকে বলেন, ‘আপাতত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য অভিভাবকদের গাড়িতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের বাসে অভিভাবক না উঠতে নিরুসাহিত করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, অভিভাবক ছাড়া অন্য যাত্রী বাসে না উঠার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে। নগরবাসীকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.