লামায় বেড়েছে তামাক চাষের বিশালতা


মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিগত মৌসুমের মত চলতি মৌসুমেও তামাক চাষের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি বছরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন স্থাানে প্রায় ৯ হাজার একর ফসলি জমিতে তামাক চাষের কার্যক্রম চলাচ্ছে দেশের নামী কয়েকটি টোবাকো কোম্পানী।

তামাক কোম্পানীগুলো তাদের রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত প্রায় সাড়ে আড়াই হাজার চাষিকে প্রাথমিক ভাবে বীজ, পলিথিন, কীটনাশক, সার বাবদ ঋনের টাকা প্রদান করেছে।

জেলার কৃষি অফিসের হিসাব মতে, গত মৌসুমে প্রায় ৭১০ হেক্টর ও চলতি মৌসুমে কোম্পানীগুলো উপজেলায় ৬০০ হেক্টর অর্থাৎ ১ হাজার ৪’শ ৮২ একর জমিতে তামাক চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

পৌরসভা এলাকার সাবেক বিলছড়ি, ছাগল খাইয়া, হরিণঝিরি, কলিঙ্গাবিল, সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা, মাতামুহুরী নদীর রাজবাড়ী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থান সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বাড়ি আঙ্গিনা থেকে শুরু করে সর্বত্রই তামাক বীজতলা করা হয়েছে।

বীজতলায় উৎপাদিত চারা এখন জমিতে রোপনের কাজ শুরু করেছে কোন কোন চাষি। আবার অনেকে তামাকের জন্য জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোম্পানীর পক্ষ থেকে চাষিদের আগে ভাগেই অর্থ, সার, বীজ, পলিথিন, কীটনাশক সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।

রেজিষ্ট্রেশনভূক্ত এসব চাষী মৌসুম শুরুর আগেই চড়া মূল্যে ফসলি জমিগুলো অগ্রিম নেয়। এছাড়াও তামাক কোম্পানীগুলোর রেজিষ্ট্রেশন বহির্ভূত তামাক চাষীর সংখ্যাও প্রায় দুই শতাধিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরাও প্রায় ৫০০ একর জমিতে এবার তামাক চাষ করবে। সবমিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার একর জমিতে তামাক চাষের প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় তামাক চাষীরা জানিয়েছে।

তবে বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে আবুল খায়ের ট্যোবাকো কমপক্ষে সাড়ে চার’শ চাষীর মধ্যে ১,৮৯০ একর, নাসির ট্যোবাকো প্রায় ২০০ জন চাষীর মধ্যে ৭০০ একর, ঢাকা ট্যোবাকো প্রায় ৯০০ জন চাষীর মধ্যে আড়াই হাজার একর, বিএটিবি প্রায় ৭’শ চাষীর মধ্যে ২০০০ একর এবং নিউজএইজ টোব্যাকো কোম্পানীর ৫০০ জন চাষীর মধ্যে ১০০০ একর জমিতে তামাক চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে।

এদিকে পরিবেশবাদীরা জানায়, বার বার একই জমিতে তামাক চাষের ফলে কৃষক, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানীগুলো আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনও তামাক চাষ অব্যাহত রেখেছে।

তবে এ বিষয়ে টোব্যাকো কোম্পানীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন ধরণের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কৃষি অফিস সুত্রে জানানো হয় সরকারীভাবে তামাক চাষ বন্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা।

তবে তামাক চাষে চাষীদের কোন ধরনের সহযোগীতা প্রদান করা হচ্ছেনা বরং কৃষকদেরকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বিকল্প সবজি চাষাবাদে উদ্ভুদ্দ করা হচ্ছে।

বর্তমানে জেলার সব উপজেলাতেই কৃষি বিভাগ তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকারি ভাবে ভুট্টা,সরিষা,বাদাম চাষের ক্ষেত্রে প্রনোদনার ব্যাবস্থা করেছে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.