মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণ করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী 


সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে এম এ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরীসহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এম এ হান্নান স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত এ মহান স্বাধীনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘর নির্মাণ করা হবে। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য যে জায়গা বাছাই করা হয়েছে  সেটি  অত্যন্ত চমৎকার ও নান্দনিক একটি জায়গা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়বে। 

বৃহস্পতিবার ( ২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় নগরীর উত্তর কাট্টলীস্থ পোর্ট লিংক রোডের পাশের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকার পরে মুক্তিযুদ্ধের সুঁতিকাগার চট্টগ্রাম। এখানে একটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা চলছে। একমাস পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব জায়গা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালকে অবহিত করেছেন। বিস্তরিত আলোচনাও হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খুবই ভালোবাসেন বলেই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়টি সম্মতি দিয়েছেন। এ জমিগুলো প্রতীকী মূল্যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হলে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো ও দ্রুততার   সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আপনাদের যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ করবো আমরা। পরবর্তীতে যেন মানুষের সামনে তা উপস্থাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করবো। এখানে বড়পরিসরে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করা হবে।

আ.ক.ম মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মুজিবনগর, সংরক্ষণ করতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজ চলছে। কিন্তু যেখান থেকে মানুষ স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে পেয়েছিল, সেই চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে বিষয়ে আমাদের কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই। চট্টগ্রাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে, সেগুলো এখনও সংরক্ষণ হয়নি। কুচক্রীমহল যাতে ইতিহাসকে বিকৃত করতে না পারে, সেজন্য এ স্থানগুলো সংরক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানেরা ইতিহাস বিকৃত করতে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জায়গাগুলো সংরক্ষণ করবো। চট্টগ্রামবাসীর ইচ্ছা, স্বপ্ন, আকাঙ্খা আমরা যাতে পূরণ করতে পারি সে জন্য আপনারা দোয়া করবেন। সফল রাষ্ট্র নায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন যাতে এ দেশ আরও অনেকদুর এগিয়ে যেতে পারে।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যা করার দরকার প্রধানমন্ত্রী তা-ই করে দিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের অতন্দ্র প্রহরী। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু এখনও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা ধর্মের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা মন্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে তারা দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। উগ্র সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে সবাইকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির প্রয়োজনে আবারও আমরা রাস্তাায় নামবো। স্বাধীনতা বিরোধীদের কঠোর হস্তে দমন করবো। জায়গাটি পরিদর্শন শেষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নাজমুল আহসান।

তিনি বলেন, জায়গাটি উত্তর কাট্টলী মৌজা। চারটি অবৈধ ইটভাটা ছিল এখানে। জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ করার পর আবারও দখল করে তারা। এরপর আমরা পুনরায় সমূলে উচ্ছেদ করি। মুখ্য সচিব মহোদয় এই এলাকা পরিদর্শন করেছে। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি জানিয়েছেন।

নাজমুল আহসান বলেন, ৩০ একর সরকারি খতিয়ানভুক্ত জায়গা এটি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি শ্মশান রয়েছে এখানে, সেটি আমরা ঠিক রাখবো। এর কোনও ক্ষতি হবে না। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পর এটি হবে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্মৃতিসৌধ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নাজমুল আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিদ ইজহার খান এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরিদা খানম সাকী এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম.ইদ্রিস সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরওয়ার কামাল দুলু।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ, সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম নগরীতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে  বিকেল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.