বান্দরবানে নওমুসলিম ইমাম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী সংগঠন গুলোর বিক্ষোভ সমাবেশ
মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলা শাখার উদ্যোগে ২৫জুন বাদে জুমা বান্দরবান বাজার শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে রোয়াংছড়ি তুলাছড়ি রায় চন্দ্র পাড়া জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম মোহাম্মদ ওমর ফারুককে সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠী কর্তৃক এশার নামাজের সময় নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী মুফতী আবুল হাসান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে
আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সাহেব বলেন, অতি দ্রুত শহীদ ইমাম ওমর ফারুক হত্যার বিচার করতে হবে। এবং সকল সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠীর মূলোৎপাটন করে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে। আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেল, কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ হত্যার ব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হয়নি? তা আমাদের বোধগম্য নয়।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারী ও জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুবাশ্বির বিন আজহার।
তিনি বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোতে পাঁচটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন রয়েছে। এরমধ্যে সন্তু লারমার জেএসএস একটি সংগঠন। সন্তুলারমার সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যে চুক্তিগুলো হয়েছে, সন্তুলারমা সে চুক্তিগুলো ভঙ্গ করেছে। অতএব জেএসএস সহ সকল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কে মূলোৎপাটন করতে হবে। আর নতুবা এটা কিসের স্বাধীন দেশ, যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না।
বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমদ কবির। তিনি বলেন, একজন সম্মানিত ইমাম কে হত্যা করা হয়েছে আজ প্রায় ৮ দিন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়নি। এবং নওমুসলিম ৩০ পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি।
তিনি পার্বত্য মন্ত্রী মহোদয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলেছিলেন সকল মানুষ এক, সকলের রক্ত এক। আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বান্দরবান গড়তে চাই। কিন্তু প্রশ্ন হল, আজ যদি একজন হিন্দুদের ব্রাহ্মণ, অথবা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ভান্তেকে হত্যা করা হতো তাহলে তো আপনারা ঠিকই তাদের পরিবার পরিজনদের কে মন্ত্রীদের মতো নিরাপত্তা দিতেন। এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। কিন্তু আজ মুসলমান ইমাম হত্যা হলো তার ব্যাপারে আপনাদের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না কেন?
আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আবু হানিফ পাপ্পু, তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা কিভাবে সাহস পায় একটি স্বাধীন দেশে একজন মানুষকে হত্যা করে ফেলে। তাহলে তো মানুষের জীবন অনিরাপদ হয়ে গেল। আর এ ব্যাপারে কেন জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
জেলা সেক্রেটারী মুফতী আবুল হাসান বলেন, অতি দ্রুত ওমর ফারুক হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে। এবং সন্ত্রাসীদেরকে পাহাড়ী জনপদ সহ সকল জায়গা থেকে মূলোৎপাটন করতে হবে। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ওমর ফারুকের পরিবার-পরিজনকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ওমর ফারুকের পরিবারসহ অন্যান্য নওমুসলিম পরিবারের জীবিকা নির্বাহের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে গ্রহণ করতে হবে। পাহাড়ী জনপদে প্রত্যাহারকৃত সকল সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন করতে হবে। আপনার যত জায়গায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা জরুরী তত জায়গায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। আমরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করি, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করি, অথচ এটা কেমন স্বাধীনতা যে আমাদের জনগণ সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি? জনগণকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে এবং চাঁদা দাবি করে। অতএব যদি দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আমরা আরো কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকব।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বান্দরবান বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌধুরী মার্কেট হয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশ দিয়ে ডিসি অফিসের সামনে দিয়ে ট্রাফিক মোড় হয়ে বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়।
সভাপতি সাহেব সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে দোয়া মোনাজাত এর মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।