আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে মেয়রকে পরামর্শ দেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ
বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের (চসিক) নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে কি সমস্যা আছে তা নতুন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি।
এসময় নতুন নগর ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রাস্তাঘাটের মেরামত কাজকে আরো কিভাবে গতিশীল, বর্ধিঞ্চু জনসংখ্যার চাপের সাথে ভাসমান হকারদের কিভাবে পুনর্বাসন করে নগরীকে জঞ্জালমুক্ত করে জন চলাচলের উপযোগি করা যায় তা নিয়ে তারা আলাপ করেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ তাঁর মন্ত্রীত্বকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা ও দেশ-বিদেশে ভ্রমণের আলোকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আত্মনির্ভরশীল করতে আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করতে মেয়রকে পরামর্শ দেন।
তিনি নিম্ন আয়ের ও শহরের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে কমমূল্যে কোন আবাসনের প্রকল্প গ্রহণ করা যায় কিনা তা মেয়রকে ভাবতে বলেন। মোশাররফ মন্ত্রী থাকাকালে ঢাকায় আবাসনের বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে সফলতা পেয়েছেন বলেও মেয়রকে জানান।
আজ বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসে করপোরেশনের অফিসে মেয়রের দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন দেখা করতে এলে নব নির্বাচিত মেয়র ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পর সাবেক এই মন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন।
আলাপকালে চসিক মেয়র রেজাউল করিম বলেন, আমি বুঝে শুনে ধীরে সুস্থে পরিকল্পিত উপায়ে এগুতে চাই। করপোরেশনের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে খুব একটা ভালো না। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে প্রয়োজনে পাইলট প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দুইটি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কাজ আউট সোর্সিংয়ে দেয়া যায় কিনা দেখবো।
যদি সুফল মিলে তবে ধারাবাহিকভাবে সবগুলো ওয়ার্ডকে দিয়ে দেয়া হবে। আলাপকালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নতুন নগর ভবনের কাজ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে নিজস্ব উদ্যোগে করার পরামর্শ দেন। তাঁর আগ্রহের জবাবে কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি বর্তমানে প্রি-একনেকে পর্যবেক্ষনের পর্যায়ে আছে।
মোট ২২ তলা ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবিত এই নগর ভবন প্রকল্পে আছে ২টি বেজমেন্ট। চসিক অফিসের পাশাপাশি থাকবে কমার্শিয়াল স্পেস, ব্যাংক বীমার অফিস।।
এসময় রাজনীতিবিদ এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, শফিক আদনান, হাসান মাহমুদ শমসের, জসিম উদ্দিন শাহ, নুরুল আনোয়ার বাহার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাসেম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, সুদীপ বসাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।