শান্তি-সাম্য-মৈত্রী-প্রগতির জয়যাত্রা চাই: শিক্ষা উপমন্ত্রী

জাতীয় শোক দিবসে মহানগর আ’লীগের আলোচনা সভা


শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এম.পি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন তা শোষিত মানুষের বাসযোগ্য ভূমির জন্য। শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতা জাতির জন্য যথেষ্ট পরিচয় নয়, মূল লক্ষ্য সাম্য-মৈত্রী- শান্তি ও প্রগতির জয়যাত্রা রচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সে আরাধ্য জয়যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এবারের জাতীয় শোক দিবস ভিন্নমাত্রায় এসেছে। এটা হলো করোনাকালের দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবেলা করে সুন্দর একটি আগামীর প্রত্যাশা।

আজ সকালে জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কখনো কখনো শোক শক্তির উৎস হয়। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পেরেছি বলেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়াবেই। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ৭৫’র ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসররা ভেবেছিল আবার পাকিস্তান কায়েম হবে। সেদিন যা ঘটেছিল তা একটি পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ।

এই অপরাধকে আড়াল করতে হত্যাকারীদের অপরাধের দায়মুক্তি জন্য রাতারাতি ইনডেমিনিটি আদেশ জারী হয়। যাকে জিয়াউর রহমান আইন সিদ্ধ করেন এবং হত্যাকারীদের পুর্নবাসিত ও পুরস্কৃতও করেন। এই অপপ্রয়াস ইতিহাসের পাপবিদ্ধ অধ্যায়। যে কারণে নতুন প্রজন্ম অভিশাপগ্রস্থ।

এই অভিশাপ মোচনে আগে-ভাগে দলের এবং আমার, আপনার ও সকলের আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন। ইতিহাস বিকৃতিতে পাপবিদ্ধদের শোধন চাই। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বলে দাবী করি, তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-প্রকৃতি ও তাৎপর্য যদি জানতে না পারি তা হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশপ্রেম বর্জিত হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন  চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী-যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রয়াসকে জোরদার করে রায় কার্যকর করা হবে।

আজ বিশ্ব বিবেক প্রত্যাশা করে পৃথিবী শান্তিময় হোক এবং অশান্তির শনিগ্রহ নির্মূল হোক। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও তিনি অবিনশ্বর ও মৃত্যুহীন। জীবিত মুজিবের চেয়ে শহীদ মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বাংলাদেশের তেরশত নদী ও বঙ্গোপসাগর, তাই চিরঞ্জীব শেখ মুজিবুর। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব, মোহাম্মদ আবুল মনসুর, থানা আওয়ামী লীগের হাজী শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মোহাম্মদ মোমিনুল হক, মোহাম্মদ আবছারুল হক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের স্বপন কুমার মজুমদার, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ ইসকান্দর মিয়া, মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, হাসান মাহমুদ শমসের, এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ হোসেন, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবদুল আহাদ, আবু তাহের, মোহাম্মদ শহীদুল আলম, জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য এম এ জাফর, ছৈয়দ আমিনুল হক, কামরুল হাসান ভুলূ, আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, জাফর আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কিষাণ চৌধুরী, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মহব্বত আলী খান, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমদ,  মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ, হাজী ছিদ্দিক আলম, মোহাম্মদ হোসেন হীরন, হাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, রেজাউল করিম কায়সার সহ ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়কগণ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় শোক দিবস পালনোপলক্ষে দারুল ফজল মার্কেটস্থ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনির্মিত করণ, কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ শেষে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে  শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, ৯টা ৩০ মিনিটে জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর কবর প্রাঙ্গনে বৃক্ষচারা রোপনের পরে রীমা কনভেনশন সেন্টারে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফির ও বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুনাজাত পরিচালনা করেন মৌলানা ফজল কবির মিন্টু।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.