আইসোলেশনে সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী, আক্রান্ত উপজেলা চেয়ারম্যান
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আইসোলেশনে আছেন রাউজানের সংসদ সদস্য, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল। মঙ্গলবার (১৯ মে) ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুলের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়।
দেশে করোনা সংকট শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই রাউজানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের পাশে লেগে আছেন সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী ও তার
জ্যেষ্ঠ সন্তান তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী। কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিতা পুত্র পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার গরিব ও দুস্থ পরিবারকে তিনি খাদ্য সহায়তার আওতায় এনেছেন সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী।
রাস্তাঘাটে নিজেই ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত জীবাণুনাশক প্রয়োগ, প্রায় ৩ কোটি টাকার ত্রাণ তহবিল গঠন করে ৬৫ হাজার মানুষের কাছে নিজে গিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়াসহ মাসিক সম্মানীর ১৫ লাখ টাকা ত্রাণ তহবিলে প্রদান করেছেন তিনি। বলতে গেলে পুরো পরিবার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন ঘরবন্দি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছন। তার জ্যেষ্ঠ সন্তান নিজের জীবন ও আত্মীয় স্বজনের মায়া কাটিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। রাউজানবাসীর মধ্যে তিনি করোনা জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচারপত্র বিতরণ করাসহ হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা চালিয়েছেন। করোনা সংকটে রাউজানে ঘুরে ঘুরে কর্মহীন, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের সমস্যা ও দুর্দশা চিহ্নিত করছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান এর হেল্প ডেস্ক টিমের মাধ্যমে। তালিকা ধরে পরে তাদের খাদ্য সমস্যা সমাধানেও কাজ করছেন ফারাজ করিম চৌধুরী।
এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান কারোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হল এরমধ্যে সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী জ্যেষ্ঠ সন্তান রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাতে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা আইসোলেশনে আছেন। আক্রান্ত চেয়ারম্যান আংকেল কেন বাবার সংস্পর্শে আসলো এসব কথা বলে কেউ দোষারোপ করবেন না। তার ঘরে একজন নবজাতক শিশু (তার নাতি) আছে, শিশুটির জন্য দোয়া করবেন। ত্রাণ মনিটরিং না করলে অব্যবস্থাপনা হবে সুতরাং আমার দায়িত্বের জায়গায় আমাকে যেতেই হবে। বাবার এই কথাগুলো এখন আমার কানে বাজছে। আপসোস নেই। কারণ যদি করোনা পরীক্ষা করে পজিটিভও আসে, সেটা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়েছে।
বাবার মনোবল শক্ত আছে এবং চেয়ারম্যান আংকেলের চিকিৎসা চলছে। আর আমার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার প্রশ্ন আসেনা। আল্লাহ্র হুকুম ছাড়া একটা গাছের পাতা ও নড়বে না, এই বিশ্বাস আমার অটুট।’
ফারাজ করিম চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আমার বাবা সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। ত্রাণ বিতরণসহ করোনার বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি সরাসরি মাঠে থেকে কাজ করেছেন। বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। করোনার উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষা সংগ্রহের ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে।
রাউজান উপজেলা আ’লীগের নির্বাহী সদস্য ও সংগঠক সুমন দে বলেন,
করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এমপি সাহেব এবং উনার জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরী এলাকার অসহায়, কর্মহীন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। ব্যাক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে তহবিল গঠন করে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। রমজানের শুরুতেই করোনার ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা চট্টগ্রামের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ২ হাজার মানুষের জন্য প্রতিদিন সেহেরীর খাবার সরবরাহ করপ যাচ্ছেন। কার্যক্রমটি ছিল অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। তারপরেও দেশের এই ক্রান্তিকালে এমন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাউজানে ভ্যানগাড়ি করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে মাছ ও শাকসবজি সরবরাহ করা, ১০০ জন ডাক্তার নিয়ে টেলিফোনে চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ নানাবিধ প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।