মক্কা-মদিনার কান্না! কদরের রাত শুরু
মুহাম্মদ সেলিম হক:
সুনসান নীরবতা।ফজরের নামাযের পূর্বে কি অর্পূব দৃশ্য।সেহরির শেষ,একটু জায়গা পাবার আশায় কৈ মাছের মতো কেবল উপরে উঠছে মানুষ।পাহাড়ের আকাঁবাঁকা ঢালুতে পা মাড়িয়ে। যেন কোন ক্লান্তি নেই, সবাই যে যার মতো ছুঁটে চলা, লাখ লাখ মানুষ পবিত্র মক্কাতে। রমজানে যারা একবার মক্কায় এসেছেন তাঁরা কি সে দৃশ্য হৃদয় থেকে মুছতে পারবে! পিপাসিত কলিজার ডানে-বামে কেবল অনুভব করবে, আল্লাহ প্রদত্ত প্রশান্তি।
এ ভাষা কাউকে বুঝাতে পারব না।
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে থেকে, আল্লাহু আকবর,আল্লাহ আকবর, ধ্বনি সুরের মূর্চনায় পুলকিত হৃদয় যেন শিহরণ জাগে সবার মাঝে। সবার মুখবয়নে হয়তো ফুটে ওঠে, হযরত বেলাল( রাঃ) আযানের কথা, কেউ হয়তো ভাবে হযরত উমর ফারুক রাঃ এর কথা।
এক সময় কি মক্কায় এরকম আযান দিতে পারতো।চোখের জলে হৃদয় হু হু করে কেঁদে উঠে।
মক্কার ইমাম হযরত সুদাইসের সে কুরআন তেলাওয়াত! মনে হবে এক মায়াবি জাদুর পরশ।কাফের আবুজাহেল আর শায়াবারা কেন গোপনে কুরআন শুনত, তা যেন চৌদ্দশত বছরের পর উপলব্ধির বিষয়ে মাত্রাটা আরো কৌতূহল বাড়িয়ে দিলো।
একেক একটা শব্দ যেন সেরা গাঁথুনীর বিন্যাসে সাজানো।কতটা নিঁখুত কুরআনের ভাষা, সেজন্য বোধ হয় আল্লাহ চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলো এরকম একটা আয়াত সবাই মিলে রচনা করতে।
বিতরের নামাযের মাঝখানে হযরত সুদাইসের কান্নাভেজা মুনাজাতে পুরো আকাশ যেন কাপঁছে।সে রাত অন্যরকম। কদরের পুরো আরব জেগে থাকে। এ রাতকে মোটেই অবহেলা করো না।
রমজানের শেষ দশ দিন তাঁরা পুরো পরিবার নিয়ে দুই হেরাম শরীফে ইবাদতে মশগুল থাকে। আমাদের মতো মার্কেটের ঘুরাঘুরি আর আড্ডায় থাকে না। সে জন্য ভাবছি আল্লাহ এদের নেয়ামত দিতে কার্পন্য করেনি।
আজ সে দৃশ্য নেই। মক্কা নীরব। জনসমাগম নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর রমজানে এরকম দৃশ্য ছিলো কী না জানি না ।কি অদ্ভুত। কোলাহল শহর আজ নীরবতার, কষ্টে দিন পার করছে।
মদিনার সে রিয়াদুল জান্নাতে দুই রাকাত নামায পড়ার জন্য কত আকুতি। ঠেলাঠেলি আর ঘন্টার পর ঘন্টার সংগ্রামে মিলে নামাযের সৌভাগ্য।
রাসুল করিম (সঃ) কে স্বশরীরে দাঁড়িয়ে একটি সালাম দেওয়াটা কত তৃপ্তিময় সেটা কেবল মদিনায় গেলে বুঝা যায়। মদিনার ইফতার আগে মূর্হুতে যেন একটা স্বর্গের পরিবেশময়।
সে চিরাচরিত পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক এখনো বজায় রেখেছে। রোজাদারদের কত সম্মান করে ইফতার করায়। সন্ধ্যার আগে পুরো মদিনায় যেন শত শত ফেরেশতা নামে। কেবল হৃদয় দিয়ে অনুভুব করলে কানে বাজাবে সে আওয়াজ। বেহেস্তের মতো শিশুরা সেবা করছে।
আহা আজ করোনার কবলে পড়ে মক্কা আর মদিনা নীরবে কাদঁছে। হৃদয় আকুতির কমতি নেই, আল্লাহর রহমতে ছাড়া কোন উপায় নেই। মেঘ কেটে যাবে, আমাদের ধরতে হবে ধৈর্য্য।
শবে কদরে দিন দুপুরবেলা থেকে মুল হেরাম শরীফে লোকারণ্য পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।সূর্য ঢলে পড়লে কেবল মানুষ আর মানুষ। এক ফোঁটা জায়গা খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল।
এ দৃশ্য আমাদের দেশে একেবারে বিরল। তখন এ দেশে মার্কেট থাকে মানুষের টুইটুম্বর। ব্যবধান এখানে গড়ে যায়। ইবাদতের কোন জায়গায় আমরা পিছিয়ে।
গত বছর রমজানে মক্কা মদিনা সফরে স্মৃতির আলোকে হোম কোয়ারেন্টিনের ভাবনা ২০১৯ সাল।
মুহাম্মদ সেলিম হক।
প্রতিষ্ঠাতা চরপাথরঘাটা মুক্ত বিহঙ্গ ক্লাব।
১৫ মে ২০২০…