জীবনের গতি থেমে গেলেও, থেমে নেই পেটের ক্ষুধা!


লেখক সালাউদ্দিন সাকিব:

দিন দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বিশ্ব। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় এলাকাও এই হুমকির বাইরে নয়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ আছে। অবস্থাসম্পন্ন মানুষের নৈতিক দায়িত্ব হলো সমাজের নিম্নবিত্ত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। করোনার করুণ সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সম্মিলিত উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবিদার।

যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মানুষ কষ্ট থেকে রেহাই পাবে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে যার সাধ্যমত খেটে খাওয়া মানুষ , শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে আমাদের সহ্নদয়বান প্রিয় মানুষগুলো। সেটা ভোটের রাজনীতি হোক, পাবলিসিটি হোক, সেলফি সাহায্য হোক কিংবা দায়িত্ববোধ থেকে হোক যেটাই হোক না কেন আমরা করে দেখিয়েছি।

কিন্তু আমরা কি সমাজের একটা শ্রেণীকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি? যাকে আমরা বলি- সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণী। যারা সামাজিক মর্যাদাকে প্রাধান্য দেয় কিংবা লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে নিজের অভাব অনটনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না। এই শ্রেণীর পরিবারগুলি ত্রাণ গ্রহণ করতে উপজেলা, ইউনিয়ন বা কাউন্সিলর কার্যালয় যাবেন না।

রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিরিয়াল ধরে পণ্য সামগ্রী গ্রহণ করা তো দূরে থাক! আবার আমরা যাদের হাতে প্রতিমুহূর্তে প্রতিদিন খাবার কিংবা ত্রাণ তুলে দিচ্ছি তারা একাধিকবার অথবা প্রতিদিন সাহায্য পাচ্ছে এমনও হতে পারে। আমি বলছিনা এটা বন্ধ হোক, এটা চলতে থাকুক। আসুন বাকি কাজটা গোপনে করি! চুপিচুপি আমার আপনার নিম্নমধ্যবিত্ত প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন পাড়া মহল্লা বা এলাকার সেই সামাজিক মর্যাদা বোধসম্পন্ন ফ্যামিলি গুলোকে রাতের আঁধারে অন্তত ১০ দিনের পণ্য সামগ্রী একসাথে পৌঁছে দিই। ইসলামেও এই শ্রেণীদের মাঝে গোপনে দান করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

আরেকটা বিষয় লক্ষণীয়, ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিবেচনা আনা সমুচিত নয়। সমাজের প্রত্যেক হতদরিদ্র মানুষের ত্রাণের সমান হক্ব আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি মানবিক বিপর্যয়ে দলমত, ধর্ম নির্বিশেষে মানবতার হাত প্রসারিত করে উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই দুর্যোগে কেউ যেন নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এবার যুদ্ধটা মূলত নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর! এরা ত্রাণও নিতে পারছে না, খেয়ে আছি বলতেও পারছে না। সামান্য রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়াতে স্তব্ধ হয়ে আছে জীবনের চাকা। জীবনের গতি থেমে গেলেও থেমে নেই পেটের ক্ষুধা। প্লিজ এদের পাশে দাঁড়ান।। জয় হোক মানবতার…..

লেখক: সাবেক আহবায়ক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.