একজন মানবতার ফেরিওয়ালা আ.জ.ম. নাছির


শুকলাল দাশ

দেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, মানবতা ও বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে। যেমনটি নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ থাবায় সারাবিশ্ব আজ বড় অসহায়।

করোনার ভয়ে ঘরবন্দি মানুষের মাঝে বিরাজ করছে নানা শঙ্কা। অঘোষিত লকডাউনে কাজ না থাকায় হতদরিদ্র মানুষেরা যখন বিপাকে পড়েছেন। যখন নগরীর ৭০ লাখ মানুষের পাশে নেই কোনো জনপ্রতিনিধি-ঠিক তখনই মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটরছন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে কার্যত যখন থমকে গেছে জনজীবন। ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসহায় মানুষের পাশে সর্ব প্রথম দাঁড়ালেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র একাই। গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড তিনি ঘুরে ঘুরে নিজ হাতে জীবানুনাশক পানি ছিটাচ্ছেন। কখনো ত্রাণকর্তার ভূমিকায় ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন সাধারণত মানুষের মাঝে। এ যেনো জনসেবার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন কঠিন করোনা পরিস্থিতিতে।

সরেজমিনে গত গত ২৪ মার্চ থেকে দেখে গেছে নগরীর রাজপথ থেকে অলি গলি কিংবা সাধারণত মানুষের ঘরে ঘরে ছুটছেন মেয়র অা জ ম নাছির। অথচ সাধারণমানুষ এই দুর্দিনে অনেক জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাচ্ছেন এলাকাবাসী। নিচ্ছেন না এলাকার মানুষের দুর্ভোগের খবর।
এই নগরীর নানান শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে যে কেউ কথা বললে এখন তাদের মুখে একটি কথাই শোনা যায় এই নগরীর মানুষের দূর্ভোগে এখন একমাত্র ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন মেয়র আজম নাছির।’ সেই কথাটা নগরীর প্রতিটি মানুষের, প্রত্যেকটি পেশাজীবীর, প্রতিটি সংবাদকর্মী এবং সুশীল সমাজের।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও এখনো পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধিকে সাধারণ মানুষের কাতারে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি তাদের কল্যাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ। গৃহবন্দী। অথচ করোনা আতঙ্কে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের মানুষও যখন ঘরে বন্দি হয়ে পড়েছে। তখন থেকেই রাজপথে সাধারণ মানুষদের জন্য সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, গ্ল্যাভস, এবং রাস্তায় জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো থেকে শুরু করে মশকনিধন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে নগরীর বৃহৎ গরীব জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে নিজের গাড়িতে করে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রবাসীদের ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ ও মানুষের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিটি মেয়র দিনরাত কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম নিউজের তিনজন রিপোর্টার নগরীর সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে সাধারণ মানুষের মাঝে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপর ক্ষোভের কথা উঠে আসে। তাদের মতে যে জনপ্রতিনিধিকে তারা নির্বাচিত করেছে তাদের দুঃসময়ে তারা এই জনপ্রতিনিধিদেরকে কাছে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘তাহলে কি সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে’ আছেন।

এসব প্রশ্নের উত্তর পেছনে ফেলে নগরবাসীর সেবায় মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। যিনি ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত নিজেই মাইক হাতে অলি-গলিতে টহল দিয়ে সচেতনতামূলক মাইকিং করছেন। হাসপাতাল-মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজে গিয়েই ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক স্প্রে।

দেওয়ানজী পুকুর পাড় এলাকার শিক্ষক লাগে দাশ, লালখান বাজার এলাকার চাকরিজীবী আফসার চৌধুরি, সিটি গেইট এলাকার সংবাদকর্মী শিল্পী নন্দন রায়, সাংবাদিক কমল দাশ, পাঠানটুলী এলাকার নারীনেত্রী রোজী, এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, এডভোকেট মোঃ ওসমান, পাথরঘাটা এলাকার সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী মোঃ শাহনেওয়াজ, সাবেক ছাত্রনেতা শাহেদ মিজান, নাসির উদ্দিন কুতুবী জানান, এখনো পর্যন্ত মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন ছাড়া করোনা নিয়ে কারো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। মানুষ খুব কষ্টে আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কঠোরভাবে জনপ্রতিনিধিদের বার্তা দিয়েছেন যেসব জনপ্রতিনিধি এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত দাঁড়াননি তাদের তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এখনো চট্টগ্রামে অনেক জনপ্রতিনিধিকে নিজ এলাকায়ই দেখা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে করোনায় গৃহবন্দি মানুষের পাশে একান্তই মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এগিয়ে আসার কথা জানিয়ে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন জানান, মানুষের এই বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ হিসেবে নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি। আমার কাছে মানবিকতায় সবচেয়ে বড় কোন পরিচয় নেই। আমি যেহেতু একজন মানুষ সুতরাং এই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই আমার কর্তব্য বলে মনে করি।

আমার রাজনীতিতে যখন হাতে খড়ি হয়েছে তখন থেকেই আমি রাজনীতিকে সেবা এবং ব্রত হিসেবে নিয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মানুষের কষ্টের মুহূর্তগুলোতে আমি নিরবে বসে থাকতে পারিনা, তাই নিজ উদ্যোগে শুরু থেকেই আমি রাজপথে আছি, প্রতিটি মানুষের পাশে আছি। আর একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তো আমাকে থাকতেই হবে। শুধু করোনায় গৃহবন্দী আজকের মানুষগুলোর পাশে নয়, এই নগরের মানুষের প্রতিটি দুঃসময়ে দুর্যোগে পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এই বিপদে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অাহবানে কেউ ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিদেরকে এলাকার জনগণের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

আমি এই নগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব অসহায় মানুষকে যা পারছি তাই দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হিসেবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি, এতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই। তাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছি। মানব সেবার চেয়ে বড় ধর্ম আমার কাছে আর কিছুই নেই। এখানে আমার কৃতিত্বও কিছু নেই। আমাকে বড় করে দেখারও কিছু নেই। আমি একজন সাধারন মানুষ-তাই মানুষের বিপদে পাশে থাকাটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় এবং ধর্ম।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.