কর্ণফুলীর শিকলবাহায় সরকারি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ


কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নে সরকারি একটি খাল ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ দখলদারেরা পানি চলাচলের খালটি রাতারাতি ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করছেন।

এ বিষয়ে এলাকার লোকজন ইতোমধ্যে প্রতিকার চেয়ে ভূমি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নদ-নদীর মুখপাত্র পরিবেশ সংগঠন নোঙরসহ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে বলে সূত্র জানায়।

বিল্লাপাড়া জোলের গোড়া খাল ভরাট

প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন কয়েকবার নিষেধ করলেও তা মানছে না প্রভাবশালীরা।

জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী এক ভূমিদস্যু ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় উপজেলার শিকলবাহা ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ কতিপয় লোকজন বিল্লাপাড়া জোলের গোড়া খালটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছেন। স্থানীয় প্রশাসন যেনো বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

এদিকে দখলবাজেরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষও এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে করোনা আতঙ্কের সময়েও দিন দুপুরে শ্রমিক লাগিয়ে খালটি ভরাট করে দখল করছেন।

এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিকলবাহা ইউনিয়নে চাষাবাদে পানি নিস্কাশনের একমাত্র এই বিল্লাপাড়া খালটি চিরতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে কিছু খারাপ প্রকৃতির লোকজনের কারণে।

বিল্লপাড়াবাসী জানায়, এভাবে সরকারি খালটি দখল হয়ে গেলে জোয়ারে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহিত হতে বাধা সৃষ্টি হবে। এমনকি শিকলবাহা গ্রামের প্রায় শতাধিক একর কৃষি জমিতে সেচ কাজ ব্যাহত হবে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে খালটি দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি প্রবাহিত বন্ধ হয়ে যাবে।

যদিও প্রাচীন আমল থেকে নৌকা ও সাম্পান যোগে এলাকার লোকজন এই বিল্লাপাড়া খাল দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করতেন। এখনো বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারে এলাকার মানুষ মালামাল আনা নেওয়া করেন। সাধারণ মানুষেরা দাবি জানিয়েছেন, তাদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষি চাষ ও সরকারি খাল রক্ষায় যেনো স্থানীয় প্রশাসন জরুরী পদক্ষেপ নেয়।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন জানান, ‘সরকারি খাল দখল করা অন্যায়। আমি বিষয়টি খবর নিয়ে কাজ বন্ধ করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু এখন কি অবস্থা সেটা জানিনা। প্রয়োজনে আমি খাল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবো।’


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.