স্বামীর ধনেই ধন্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের স্ত্রীরা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চসিক নির্বাচনের ৩০ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের আবদুস সবুর লিটন-চারজনই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
এর মধ্যে লিটন ছাড়া অন্য তিনজনই বর্তমান কাউন্সিলর। তারা সবাই ধন-সম্পদে ঐশ্বর্যশালী। শুধু তারাই নন, তাদের স্ত্রীরাও ধনবান। অথচ স্ত্রীদের আয়-উপার্জন নেই। স্বামীর ধনেই ধন্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিজেদের স্ত্রীরা। ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন উপলক্ষে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন বলেন, কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় অনেকে তথ্য গোপন করলেও আমি করিনি। বছরে কোটি টাকা আয় হলেও তা বৈধ পথে। প্রতি বছর আয়করও দিই। বৈধভাবে ব্যবসা করেই কোটিপতি হয়েছি। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে জড়িত থাকায় তারও রয়েছে নগদ টাকা ও সম্পদ। তবে এখানে চাঁদাবাজি বা কোনো অনিয়ম করার অভিযোগ সঠিক নয়।
জিয়াউল হক সুমন : চসিক নির্বাচনের ৩০ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মাছ চাষ থেকে বছরে আয় ৬ লাখ টাকা। গরুর খামার থেকে আয় এক কোটি টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্ট বা দোকান ভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ৭৮ হাজার টাকা। ব্যবসা বা ঠিকাদারি থেকে আয় এক লাখ ২৩ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সম্মানী ভাতা চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ২১০ টাকা। স্ত্রীর রয়েছে ৪১ হাজার টাকা। গাড়ি রয়েছে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকার। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর রয়েছে ৬০ হাজার টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ৪০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার।
ইলেকট্রনিকসামগ্রী রয়েছে ৫০ হাজার টাকার। আসবাবপত্র রয়েছে ৪০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমি চার গন্ডা ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, ২ গন্ডা ৩৪ লাখ ৩২ হাজার, ৫৫০ টাকা, তিন গন্ডা ১২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা। ২ গন্ডা ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা। ৬ গন্ডা ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা। ৩ গন্ডা ৩ কড়ার দাম ১৭ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা। ৩ গন্ডা ২ কড়া ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা। শূন্য দশমিক ৪৯৬ শতকের দাম ৬৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। দালান (আবাসিক বা বাণিজ্যিক) রয়েছে একটির দাম ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা, অন্য চারটির দাম এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকার জমি। মৎস্য খামারের সুমনের মূলধন এক লাখ টাকা, গরুর খামারে ২০ লাখ টাকা, ব্যবসায় মূলধন ২৯ হাজার ৩৩৯ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যবসার মূলধন ৭ হাজার ৪০০ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে ভরপুর থাকলেও সুমনের ব্যাংক ঋণ নেই।
চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী :
২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। এবারও আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন। তাঁর শিক্ষাগতযোগ্যতা এইচএসসি। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। পেশায় ব্যবসায়ী হাসনীর বার্ষিক আয় ৭০ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের সম্মানী ভাতা চার লাখ ২০ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদের আয় ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাসনীর নিজের নামে নগদ রয়েছে ৪ হাজার ২৬৫ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৯ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজের নামে জমা রয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৭ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ১৮১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে নিজের বিনিয়োগ হচ্ছে ৫৬ হাজার ৯৮৮ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরের স্বর্ণালঙ্কার নিজের নামে রয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার। ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিজের নামে রয়েছে ৪০ হাজার ২৫০ টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে তিন লাখ টাকার। আসবাবপত্র নিজের নামে রয়েছে ১৫ হাজার টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার। অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে নিজের নামে রয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে অকৃষি জমি রয়েছে সাত লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকার। বাড়ি বা এপার্টমেন্ট যৌথ মালিকানায় রয়েছে দশমিক ০৪৩৯ একর। এর মধ্যে নিজের রয়েছে ১০০০ ভাগের ১৩৫ শতাংশ। তার কোনো ধার-দেনা বা ব্যাংক ঋণ নেই।
আবদুস সবুর লিটন :
২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন আবদুস সবুর লিটন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। ব্যবসায়ী প্রার্থী লিটনের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২৫ লাখ ৯২ হাজার ৪০৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে তিন লাখ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা রয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ২৯৯ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে নিজের বিনিয়োগ রয়েছে ৫ লাখ টাকার এফডিআর। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ টাকার এফডিআর। নিটল মোটরস থেকে কিস্তিতে কেনা কাভার্ড ভ্যানের দাম ১ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। অন্যান্যের মধ্যে ব্যবসার মূলধন ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৩ টাকা। তার ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল এর মূলধন ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো মূলধন ২৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৬ টাকা। সম্পত্তির বায়নাবাবদ বিনিয়োগ দুই কোটি টাকা। মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের মূলধন ৪ লাখ টাকা। মেসার্স পেপার টোনের মূলধন নয় লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার জমি। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার পুকুর জমি। নির্ভরশীলদের রয়েছে ১৪ লাখ টাকার জমি। নিজের নামে চার শতক জায়গায় একতলা দালান রয়েছে। যার মূল্য ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
হাসান মুরাদ বিপ্লব :
চসিকের ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। পেশায় ব্যবসায়ী এই কাউন্সিলরের বার্ষিক আয় এক লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত রয়েছে ৫৫ হাজার ৬০ টাকা। পেশা থেকে আয় ৬ লাখ টাকা। চসিকের সম্মানী ভাতা চার লাখ ২০ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদের কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে নগদ রয়েছে ১০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে চার লাখ ৫৩ হাজার ৯৮২ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা রয়েছে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮৪ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬৪ হাজার ৪২৪ টাকা। বন্ড, স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিতে নিজের নামে না থাকলেও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫৮ হাজার ৩৬২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস বা স্থায়ী আমানত খাতে নিজের নামে এফডিআর রয়েছে ১৮ লাখ এক হাজার ৩২৭ টাকা। ডিপিএস রয়েছে ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬০ টাকা। স্ত্রীর নামে ডিপিএস রয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা। নিজের নামে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার গাড়ি রয়েছে। বিয়ের উপহারস্বরূপ নিজের নামে ৮০ হাজার টাকার ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। স্ত্রীর রয়েছে ৬০ হাজার টাকা দামের ১৩ ভরি স্বর্ণ। নিজের নামে ৩০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকসামগ্রী রয়েছে। নিজের নামে ৭০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ২০ হাজার টাকার পৈতৃক অকৃষি জমি রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৫ দশমিক ২ কাঠা জমি রয়েছে। যার মূল্য ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা। পৈতৃক ও নিজের নামে দালান রয়েছে। চা বাগান, রাবার বাগান, মৎস্য খামার খাতে নিজের নামে সম্পদ না থাকলেও স্ত্রীর নামে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। তার কোনো ধার-দেনা বা ব্যাংক ঋণ নেই।