ছবি শুধু তথ্য দেয় না, আকৃষ্টও করেঃ চবিতে শহিদুল আলম


বাংলাদেশের বিশিষ্ট ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম বলেন, অনেকেই মনে করেন ফটোগ্রাফি খুব সহজ শুধু ক্যামরা থাকলেই ছবি তোলা যায়। ছবি তোলা যায় সেটা ঠিক কিন্তু ক্যামরা থাকলেই তিনি ফটোগ্রাফার হয়ে যান না যেমনিভাবে কলম থাকলেই কেউ লেখক হয় না। একটা ভালো আলোকচিত্র সমাজে-রাষ্ট্রে অনেক প্রভাব ফেলে। একটি ছবি শুধুমাত্র কিছু তথ্য দেয় না মানুষকে আকৃষ্টও করে। সমাজ পরিবর্তনেও রয়েছে আলোকচিত্রের প্রভাব।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারোটায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন অনুষদের এ কে খান মিলনায়তনে জার্মানী গণমাধ্যম ‘ডয়েচে ভেলে’র সহযোগিতা ও চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যােগে আয়োজিত ‘নাগরিক সাংবাদিকতা ও ভিজ্যুয়ালের ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহিদুল আলম বলেন, আমরা এখন বিংশ শতাব্দীতে বাস করি কিন্তু আমাদের মধ্যে আলোচিত্রের প্রচলনটা ঠিকভাবে হয়ে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোপ্রাফি শেখানো হলেও স্কুল-কলেজে এটা শেখানো হচ্ছে না। চারুকলায় ফটোগ্রাফি শেখানো হচ্ছে না।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, একটা শিশুকে ধুমপান করার জন্য তিন বছর বয়স থেকে প্রেষিত করা হয় কিন্তু ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহী করা হয় না। ফটোগ্রাফির মধ্যে একটি অনন্য শক্তি রয়েছে যেটা অন্য মাধ্যমে নেই। আমরা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পেইন্টিং, ভাস্কর দেখাতে পারি কিন্তু চাইলেই পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে ফটোগ্রাফি দেখানো যায় না।

তিনি বলেন, একজন সৃজনশীল আলোকচিত্রী অনেকভাবেই আলোকচিত্রী দেখিয়ে তথ্য দিতে পারেন। যা বিশাল গল্পও বলে দেয়। এক্ষেত্রে একজন পেশাজীবী সাংবাদিক অনেক সময় সব কিছু চাইলেই প্রকাশ করতে পারেন না কিন্তু একজন নাগরিক সাংবাদিক চাইলে সেটা পারেন। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার সম্ভবনা থাকে কিন্ত আপনি যদি এই নিপীড়ন গ্রহণ করেন তাহলে নিপীড়ক জয়ী হবে। আর যদি বলেন ‘না’ আমি পারি তাহলে আপনি জয়ী হবেন এবং আপনার পাশে তখন অনেককে পাবেন।

তৃণমূল পর্যায়ে ফটোগ্রাফিকে পৌঁছে কি কাজ করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদুল আলম বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য আমি তিনটি বিষয় বড় করে দেখি তারমধ্যে শিক্ষা, ফটোগ্রাফি এবং সংস্কৃতি। এই তিনটি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। তারমধ্যে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, দ্রীক পিকচার লাইব্রেরি এবং ছবিমালা তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কর্মশালায় চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের এবং অন্যান্য বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকের মধ্যে বিভাগের প্রফেসর শহিদ উল্যাহ, সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী অধ্যাপক এ কে এম জিয়াউর রহমান খান, মাধব চন্দ্র দাস, সুবর্ণা মজুমদার, মো. আসাদুজ্জামান, সুদীপ্ত শর্মা এবং রাজীব নন্দী উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.