‘বই মানুষকে মননশীল ও মানবিক করে’
বইমেলায় বিশ্বভরা প্রাণ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি আনন্দ প্রকৃতি
বাংলা মায়ের ভাষা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদ হন রফিক,শফিক, সালাম, বরকতসহ আরও নাম না জানা অনেকেই। বায়ান্নের সেই পটভূমির হাত ধরে আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।
৩০ লক্ষ শহীদ,২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আসে স্বাধীনতা। ২০০০ সালে বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭২ সালের ৮ ই ফেব্রুয়ারি তারিখে চিত্তরঞ্জন সাহা বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশে বইমেলা বিস্তৃতি লাভ করে।চট্টগ্রামে বড় পরিসরে ২য় বার আয়োজন করা হলো বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা -২০২০।
আয়োজন করে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ,চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ,লেখক, সাংবাদিক,শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
চট্টগ্রাম বইমেলায় মোট বইয়ের স্টলের সংখ্যা ২০৫ টি,ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ১১৮ টি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করে, চট্টগ্রাম থেকে অংশ নেয় ৮৭ টি প্রকাশনী। চলো করি শিল্পের বড়াই স্লোগানের কুঁড়েঘর থেকে এবারে বইমেলায় প্রকাশ হয় উপন্যাস -অন্ধের রাজপথ লেখক আরমানউজ্জামান, সুখ মহল-মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ। খড়িমাটি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশ হয় মুক্তির প্রবক্তা শেখ মুজিব-কামরুল হাসান বাদল,অসূর্যস্পশ্যা -সাজিয়া আফরিন। অক্ষরবৃত্ত থেকে এবার প্রায় ১৫০ টির মতো নতুন বই প্রকাশ করা হয়। তার মধ্যে চট্টগ্রাম অতীত ও ঐতিহ্য -তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, গল্পগ্রন্থ তিলোত্তমা বিষয়ক পাপ- এমরান কবির,এখানে শির দাঁড়া মেরামত করা হয়- প্রিন্স আশরাফ বই গুলো উল্লেখযোগ্য।
ফেইসবুক ভিত্তিক গ্রুপ পেন্সিল থেকে আলোর মুখ দেখে ৫৪ টি বই,অলস রাজার দেশে-এমিলিয়া নূর,অলাতচক্র -এশরার লতিফ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ পড়ুয়া সানজিদা বই মেলা ঘুরতে এসে বলেন, সত্যিই বই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এই বইমেলায় আমি প্রথমবার আসলাম, সেই সাথে সানজিদা, পেন্সিল থেকে বই কিনেন, রাহনূমা পারভীনের উপন্যাস স্বপ্নবাজি। ইন্টারন্যাশনাল হোপস স্কুল বাংলাদেশের জুহাইন হোসেন ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে, সে পছন্দ করে একটা বই কিনেছে, বইটির নাম-সোনাডাঙ্গা স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ, সে বললো বইমেলাতে এসে আমার খুব ভালো লাগছে, মেলায় আবার আসবো আর ও বই কিনবো।
বেহুলা বাংলা প্রকাশনের উল্লেখযোগ্য বই,গল্পগ্রন্থ লাল ফিতে-মাজহারুল আলম তিতুমীর, যতীন সরকারের জ্ঞানাশ্রম-শিশির রাজন। দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ সমগ্র -মঈন চৌধুরী,কাহলিল জিবরানের পৃথিবীর ঈশ্বরেরা,ভাষান্তর চন্দন চৌধুরী।
বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনী থেকে বের হয়,বঙ্গবন্ধুর লেখা ও কথা, সম্পাদনায় ইসরাফিল শাহীন,৭১পঞ্চম খন্ড মুক্তিযুদ্ধের কবিতা,সম্পাদনায় লক্ষ্মী চক্রবর্ত্তী,শেখ রফিক। বই মেলা নিয়ে খড়ি মাটির প্রকাশক মনিরুল মনির বলেন, বইমেলা আয়োজন চমৎকার,কিন্তু পাঠক -লেখক প্রকাশকদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সহজ করে তুলতে হবে। লেখকদের যেমন দায়িত্ব একটি বইয়ের প্রকাশে,তেমনি বইমেলার দায়িত্ব ও লেখক প্রকাশক উভয়ের।
লেখক ও সাংবাদিক রাজীব রাহুল বলেন, অতীতে বইমেলা ছোট পরিসরে বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হতো, কিন্তু গত বছর থেকে বড় পরিসরে বই মেলার উদ্যোগ নেন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দীন। এই মেলা যাতে বাংলা একাডেমীর মতো বড় পরিসরে রুপলাভ করে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
গল্পকার আহমেদ মনসুর বলেন,আয়োজনের পরিসর ও স্টলের সংখ্যা বেড়েছে। বইমেলাকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে,বিশেষ করে দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রামের অনেকেই জানেন না,চট্টগ্রাম শহরে একটা বড় পরিসরে বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।তার জন্য বই মেলার আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংগীত শিল্পী,সংগঠক, বিশ্বভরা প্রাণ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি, সেবাঘর সংঘ’র মহাপরিচালক আনন্দ প্রকৃতি বলেন, বই মানুষকে মননশীল ও মানবিক করে তুলতে সাহায্য করে।মননশীল জাতি গঠনে বই পড়ার ভূমিকা অপরিসীম। বইয়ের মতো ভালো বন্ধু হয় না,বই প্রকৃত বন্ধুর মতো মানুষের জীবনে ভূমিকা পালন করে থাকে। তরুণদের বই পড়তে আগ্রহ তৈরী করার জন্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাশাপাশি সরকার ও চাইলে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
বই মানুষকে সমৃদ্ধ করে তুলে,পরিশীলিত ও বিনয়ী করে তুলে,আসুন আমরা সন্তানকে বই পড়তে উৎসাহিত করি। বই মেলা চলবে আগামী ২৯ তারিখ রাত ৯.৩০ পর্যন্ত।স্থান জিমনেশিয়াম মাঠ,স্টেডিয়াম সংলগ্ন,কাজীর দেউড়ি,চট্টগ্রাম। বইমেলায় আসুন,দেখুন,বই কিনুন,বই পড়ুন। প্রিয় জনকে বই উপহার দিন।