চট্টগ্রামে সন্ধ্যায় ঘোষণা দিয়ে রাতে হত্যা, ১৫ ঘন্টায় আসামি গ্রেফতার করলো র‍্যাব


নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় আজাদুর রহমান নামের এক যুবককে সন্ধ্যায় হত্যার ঘোষণা দিয়ে ভোর রাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগে ১৫ ঘন্টার মধ্যে আবু তাহের রাজীব (২৩), দেলোয়ার হোসেন জয় (২৭), মোঃ রায়হান সজীব (২২) ও আবুল হাসনাত রানা (৩০) নামের চার জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম।

সোমবার (২৯ মে) রাঙ্গামাটি জেলার কোতয়ালী থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৮ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার সময় অজ্ঞাতনামা একব্যক্তি চট্টগ্রাম নগরীর নয়াবাজার এলাকার একটি কারখানার গেইটের সামনে প্রশ্রাব করলে কারখানার নৈশ প্রহরী নিহতের বড় ভাই মফিজ তাকে বাধা প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত ব্যক্তি নৈশ প্রহরী মফিজকে বলে, ‘এটা সরকারী জায়গা তুই বাধা দেওয়ার কে’ এই বলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামী আবু তাহের রাজীব, ওসমান, আবুল হাসান, এবং কতিপয় অজ্ঞাতনামা আসামীরা উক্ত জায়গায় এসে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়। বড় ভাইয়ের সাথে কথা কাটাকাটির শব্দ শুনে নিহত আজাদুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তার সাথেও কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরবর্তীতে আসামীরা আজাদকে দেখে নিবে বলে হুমকি প্রদান করে স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে একই রাতে ভোর আনুমানিক ৪.৫০ মিনিটে নিহত আজাদুর রহমান দোকান হতে নাস্তা আনার জন্য বাসা হতে বের হয়। পথিমধ্যে পাহাড়তলী থানাধীন নয়াবাজার পৌছালে পূর্ব হতে উৎপেতে থাকা আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আজাদকে একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলাপাথাড়ীভাবে পেটে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। ছুড়িকাঘাতের ফলে আজাদের পেটের ভুরি বের হয়ে যায়। এসময় আজাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় আজাদের স্ত্রী বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। উল্লেখ্য, হাসপাতালে নেয়ার পথে মুমূর্ষ অবস্থায় নিহত আজাদ তার ভাতিজা তারেকুর রহমান এর নিকট তার উপর আক্রমণকারীদের নাম প্রকাশ করেন। আজাদ মৃত্যুর পূর্বে আরও বলে যান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলাপাথাড়ীভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেছে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৭ মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরধারী অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে র‍্যাব গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, মামলার অন্যতম প্রধান কয়েকজন আসামী রাঙ্গামাটি জেলার কোতয়ালী থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল ২৯ মে ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মামলা দায়েরের ১৫ ঘন্টার মধ্যে আবু তাহের রাজীব, দেলোয়ার হোসেন জয়, মোঃ রায়হান সজীবকে এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেয়া তথ্যমতে নগরীর কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে আসামী আবুল হাসনাত রানাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বর্ণিত হত্যার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে স্বীকার করা হলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.