খুনিরা ক্ষমতায় এসেছিলো বলে বাংলাদেশ এগুতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী


কে এম রাজীব, চট্টগ্রাম: অনেরা ক্যান আছন, ভালা আছন নি। অনারাল্লাই পেট পুরেদ্দে ইতাল্লাই অনারারে চাইবেল্লাই আইসসি। চট্টগ্রামে আমার অনেক প্রিয় জায়গা অনেক স্মৃতি। অনেক বছর পর আমি চট্টগ্রামে এসেছি। আমার বাবা জেল থেকে বেরোলে আমাদের বেড়াতে চট্টগ্রাম নিয়ে আসতেন। চট্টগ্রামের সকল নেতাদের কথা মনে পড়ে। এ চট্টগ্রাম এম এ আজিজের চট্টগ্রাম। এ চট্টগ্রাম এম এ হান্নান, ওহাব মিয়া, আক্তারুজ্জামান, মহিউদ্দিন চৌধুরী, এম এ মন্নানের চট্টগ্রাম। আজ বলতে হয় আপনারা যে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন ওরা (বিএনপি) সে জয় স্লোগান বাংলা স্লোগান মুছে ফেলতে ছেয়েছিলো। কিন্তু আপনাদের সহযোগিতায় তা পারেনি। খুনিরা ক্ষমতায় এসেছিলো বলে বাংলাদেশ এগুতে পারেনি। তারা গণতন্ত্রের নামে দেশে চারিদিকে শুধু অগ্নিসন্ত্রাস, লঞ্চ-ট্রেনে আগুন, রাস্তায় আগুন, মানুষের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে মানুষ খুন করা। এখন দেশে গণতন্ত্র আছে বলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির দুই গুণ, ভোট চুরি আর মানুষ খুন। বিএনপি আপনাদের চট্টগ্রামের মানুষের সাথে সম্পর্ক রেখে মানুষ খুন করেছে। যাদের মধ্যে মনুষত্ব আছে তারা কী এভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে? খুন গুম বিএনপি ভালো জানে, তাদের কাজ হচ্ছে আন্দোলনের নামে মানুষ খুন করা।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর-দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। ২০১৩ থেকে শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা, মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করার জবাব একদিন খালেদা জিয়া-তারেক জিয়াকে দিতে হবে, এর হিসাব একদিন জনগণ নেবে। আমি তাদের বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়া ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল। আর ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই তাকে বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। সারা বাংলাদেশ ফুঁসে উঠেছিল। জনতার মঞ্চ করেছিলাম আমরা। খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। দেড় মাসও যায়নি, খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। সে কথা বিএনপির মনে রাখা উচিত। জনগণের ভোট যদি কেউ চুরি করে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেয় না। ওরা তা ভুলে গেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কাজ করে, জনগণের কল্যাণের কাজ কর, উন্নয়ন করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আর বিএনপি মানুষকে বিভ্রান্তি করে, তারা মানুষের শান্তি চায়না। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য, জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় প্রত্যেক জেলা উপজেলায় সরকারি স্কুল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি। সবার হাতে মোবাইল দিয়েছি। মানুষ এখন দেশে বসে মোবাইলে ভিডিও’র মাধ্যমে কথা বলতে পারে যা এক সময় মানুষ পারতো না, সেটাও আওয়ামী লীগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। দেশে ২ কোটি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। ৫৬০ টি মডেল মসজিদ তৈরি করেছে। সকলের বেতন বাড়িয়েছি। কিছু কিছু দিনের মধ্যে কর্ণফুলী টান্যানেল উদ্বোধন করা হবে। এ টান্যালের জন্য সব চেয়ে বেশি খুশি হতেন মহিউদ্দিন ভাই। উনি সব সময় বলতেন। আমার খুব খারাপ লাগছে। উনি দেখে যেতে পারলেন না। আওয়ামী লীগ এতো উন্নয়ন করার পরও বিএনপি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে, দেশে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে। আর বিএনপি কি করেছে, দেশে উন্নয়নের লুটপাট করেছে, মানুষ হত্যা করেছে। তারা স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে মিলে ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। মানুষের সর্বনাশ করা এটাই কী বিএনপি-জামায়াত শিবিরের কাজ? নাকি তাদের সঙ্গে চোরের সখ্যতা আছে। না কি চোরকে চুরি করার সুযোগ করে দেওয়া। স্বাধীন বিরোধীদের সাথে তাদের বিএনপির এখনো সখ্যতা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীরা যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আপনাদের দোয়াই ক্ষমতায় এসেছি বলে বঙ্গবন্ধুর বিচার করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ভোট পাবে না বলে বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে রাখতে চায়। ওরা জানে ইলেকশন হলে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তাই তারা ইলেকশন চায় না তারা সরকার উৎখাত করে, এমন কিছু আসুক যারা একেবারে নাগরদোলায় করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এটাই তারা আশা করে, এটাই তাদের বাস্তবতা। তারা জনগণের তোয়াক্কা করে না। তারা ভোটে যেতে চায় না। জিয়াউর রহমান যেমন জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, সেনা আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছিল। ওদের ধারণা ওইভাবেই তারা ক্ষমতায় যাবে। গণতান্ত্রিক ধারা তারা পছন্দ করে না।

শেখ হাসিনা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সেই ১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় একটা তারিখ। বোধ হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনের দোসর ছিল বলেই ১০ ডিসেম্বর তারা ঢাকা শহর নাকি দখল করবে। আর আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করবে। বিএনপি গুজব ছড়িয়ে বলছে রিজার্ভ এবং ব্যাংকে টাকা নেই, একটা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি আমি, আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে তারা অপপ্রচার করছে। অথচ এই কয়েক দিনে যারা টাকা তুলতে গেছে তারা সবাই তো টাকা তুলতে পেরেছে। মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমার, একটা কথা আছে আপনি ব্যাংকে টাকা রাখবেন, না আপনি খাটের নিচে, বালিশের নিচে না আলমারিতে রাখবেন; চোরেও তো নিয়ে যেতে পারে। গুজবে মানুষ বিভ্রান্ত হয় টাকা তুলে ঘরে আনে, চোরেও নিতে পারে, আবার টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা রাখে। এই যে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আপনারা গুজবে কান দেবেন না। বিএনপি কিছুতে পারদর্শী না হলেও তারা মিথ্যায় খুব পারদর্শী। বাংলাদেশকে খুনিদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, বাংলাদেশ নিয়ে যেন সিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য সকলের সহযোগিতা চাই। আপনারা আমার পরিবার, আমার ভাই, আমার বোন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.