চট্টগ্রামে বস্তার সূত্র ধরে দ্রুত সময়ে বর্ষা হত্যারহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার


নগরীর জামালখান কুসুম কুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মারজানা হক বর্ষা (৭) নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় বস্তার সূত্র ধরে দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত আসামি লক্ষণ দাশ (৩০) কে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ( ২৭ অক্টোবর) জামালখান এলাকায় গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লক্ষণ দাশ লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর পদুয়া গ্রামের মনি মিস্ত্রির বাড়ির ফেলোরাম দাশের ছেলে।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার ( দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে চারটায় মারজানা হক বর্ষা (৭) জামালখান লিচু বাগান সিকদার হোটেলের পাশের গলির বাসা থেকে চিপস কিনতে গলির মুখে দোকানে যায়। চিপস কিনে দীর্ঘক্ষণ বাসায় ফিরে না আসায় বর্ষার পরিবার সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ২৫ অক্টোবর বর্ষার বড়বোন ছালেহা আক্তার রুবী কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর জামালখান লিচু বাগান সিকদার হোটেলের পিছনে ড্রেনের উপর বস্তাবন্দি ভিকটিমের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর মৃতদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে বর্ষার লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে আসামির খোঁজে মাঠে নামে টিম কোতোয়ালি। একপর্যায়ে ২৭ অক্টগোবর গভীর রাত আসামি লক্ষণ দাশকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও জানান, বর্ষাকে ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে নিজের কর্মস্থল জামালখান এলাকায় “শ্যামল স্টোর” নামের দোকানের গোডাউনে নিয়ে যায় লক্ষণ। সেখানে বর্ষাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে তার রক্ত ক্ষরণ হলে তাকে হত্যা করে এরপর লাশ বস্তায় ভরে নালায় ফেলে দেয় লক্ষণ দাশ।

তিনি বলেন, টিসিবির সীলযুক্ত বস্তার সূত্র ধরে খুনিকে শনাক্ত করে পুলিশ। শিশু কন্যা বর্ষার মৃতদেহ ড্রেনে পাওয়ার পর যখন বস্তা কেটে মৃতদেহটি বের করা হয় তখন পুলিশের নজরে আসে টিসিবি’র সীল যুক্ত বস্তার দিকে। এসময় সীলযুক্ত বস্তায় মালামাল বিক্রয়ের দোকান ও আশেপাশের বিভিন্ন রেস্তোরার গোডাউনে টিসিবি’র সীলযুক্ত বস্তা খুঁজতে থাকে পুলিশ। একপর্যায়ে ‘শ্যামল ষ্টোর’ দোকানের গোডাউন চেক করার সময় একটি খালি টিসিবি’র সীলযুক্ত বস্তা খুজেঁ পাওয়া যায়। টিসিবির সীলযুক্ত বস্তাকে টার্গেট করে ওই দোকানে মালিক ও কর্মচারী হিসেবে কারা কারা কাজ করেন তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয় এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় লক্ষণ দাশকে শনাক্ত করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর লক্ষণ দাশকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, মারজানা হক বর্ষাকে সে বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে চিপস, চকলেট দিত।২৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ টায় ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে দোকানের গোডাউনে নিয়ে যায়। গোডাউনে নেওয়ার পর মুখ এবং নাক চেপে ধরে বর্ষাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণকালে বর্ষার যৌনাঙ্গ থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ায় লক্ষণ দাশ ভয় পেয়ে ভিকটিমের মুখ এবং নাক চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে সে গোডাউনে রাখা টিসিবি’র সীলযুক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে ভিকটিমের মৃতদেহ ঢুকায়। বস্তাবন্দি মৃতদেহটি সে বাহিরে এনে গোডাউনের ডান পাশে দেয়াল সংলগ্ন ড্রেনে দেয়ালের উপর দিয়ে ফেলে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরে সে ভিকটিমের কাপড়চোপড় পেঁয়াজের খোসার বস্তার ভিতর খোসাসহ ঢুকিয়ে বস্তাটি ড্রেনে ফেলে দেয়। এরপর পরে সে ভিকটিমের ব্যবহৃত স্যান্ডেলটি নিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর নিহত বর্ষার মা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.