এই জায়গায় কোনো অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রাখতে দিব না : মমিনুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় প্রায় সাড়ে তিনশ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা আমরা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করবো। এখানে প্রায় সাড়ে তিনশ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। আমরা এটির তালিকা করেছি। এই সাড়ে তিনশ অবৈধ স্থাপনাকে আমরা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটাকে উচ্ছেদ করে দিব। যেহেতু এখানে সরকারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রয়েছে এই জায়গা আমরা কোনো অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ বসতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রাখতে দিব না। আদালত পাড়ার পাহাড়ের কয়েকটি স্থানে মাটি ধসের পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সাড়ে ৪ টায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পরীর পাহাড়ে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়াতে পরীর পাহাড়ে অ্যাডভোকেট ক্লার্ক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডর সমিতির স্থাপনার পিছনে পাহাড়ের মাটি ধস হওয়ার স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম জেলা জজ (নেজারত) খায়রুল ইসলামসহ ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল। উপস্থিত ছিলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কারিগরি টিম, পরিবেশ অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীসহ পরিদর্শন দল।
জেলা প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমানা ঘেঁষে আইনজীবীদের যে ভবনগুলো হয়েছে সেগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং কতটা জায়গায় ফাটল ধরেছে তা আপনারা দেখেছেন। রিটেনশন ওয়ালের ফাটল এবং স্যুয়ারেজ লাইনের পানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এলাকা সয়লাব হচ্ছে। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই পাহাড়ের তিন থেকে চারটি জায়গায় গত বর্ষায় ধস হয়েছে। এবং আরও বেশ কিছু জায়গায় ধস সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় পরীর পাহাড়ের ধসে পড়া স্থানসমূহ পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল অতিদ্রুত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও সংস্কারের পরামর্শ প্রদান করেন। সে মোতাবেক পরীর পাহাড়ের ধস প্রতিরোধে ও ধসে পড়া স্থানের ক্ষতি প্রশমনে অতিসত্বর রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করেন।
যৌথ পরিদর্শক দল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল স্থাপনা সমূহের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সমূহ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শক দল আশঙ্কা করেন পরীর পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ সকল বহুতল স্থাপনার কারণে পরীর পাহাড় এলাকায় যে কোন সময় মারাত্মক পাহাড় ধ্বসসহ ভূমিকম্পে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। যার ফলে যুগ্ম জেলা জজ (নেজারত) জেলা জজ আদালত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভবনের আশপাশের অবৈধ স্থাপনাসমূহ দ্রুত অপসারনের নির্দেশনা দেন যৌথ পরিদর্শক দল। জেলা প্রশাসক সম্ভাব্য পাহাড়ধ্বস ও ভূমিধ্বস হতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধকল্পে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাসমূহ স্বীয় উদ্যোগে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান দলটি।
জানা যায়, বর্তমানে এই পাহাড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, নতুন আদালত ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, আইনজীবীদের পাঁচটি ভবন বেশ কিছু সরকারি কার্যালয় রয়েছে।
এই পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা, সাব রেজিস্টি অফিস এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস। কোর্ট হিল’ বা ‘পরীর পাহাড়ে’ আইনজীবীদের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসনের বিরোধ চলছে প্রায় বিগত নয় মাস ধরে। পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পরীর পাহাড়কে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা (হেরিটেজ) হিসেবে সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।