চট্টগ্রামে বর্ণিল আয়োজনে আ’লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
নানান রঙের ব্যানার-ফেস্টুন, ব্যা-পাটিসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে নেতাকর্মীদের মিছিল-শ্লোগানসহ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় চট্টগ্রামে দলের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে আওয়ামীলীগ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরের পর থেকেই পুরাতন রেল ষ্টেশন চত্বরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশস্থলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নগরীর ১৫টি থানা, ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীগণ ব্যানার, ফেস্টুন আর বাদ্য-বাজনা নিয়ে মিছিল সহকারে উপস্থিত হহেত শুরু করেন। সভা শুরুর আগেই পুরো এলাকা দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় বক্তারা বলেন, আজ পর্যন্ত বাঙালি জাতি সত্তার সব মহতি অর্জন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ মানেই জনগণের আশা আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন। মানুষের চোখের ভাষা বুঝে রাজনীতি করে বলে এই দলটি সবসময় সফলতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণ এখনো মনে করে এদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে এদেশের মানুষের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি অপশক্তি বেশি অরাজকতা ও নাশকতার মহড়া দিচ্ছে। জনগণের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। এদের জন্ম ক্যান্টমেন্টে। তাই এদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এরা অতীতে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়েছে। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করা দেশপ্রেমিক জনগণের নৈতিক দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই স্বাধীন বাঙালি জাতিসত্তার বীজ বপিত হয়। ১৯৭১ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে সেই বীজ থেকেই বাংলাদেশ নামক বিশাল মহিরোহের উত্থান হয়। এই উত্থানের প্রতিপক্ষ অপশক্তি কখনো বাংলাদেশ নাম রাষ্ট্র মেনে নিতে পারেনি। তাদের পাকিস্তানী পেত্মারা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্তির চোরা বালিতে ঢুবিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ বছর ধারাবাহিক ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের সকল সফলতা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। আজ সমস্ত অসাধ্য সাধন হয়েছে এবং অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, পদ্মা সেতুই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের কোন বিকল্প নেই। তাই সকল সংকীর্ণতা ও ব্যক্তি স্বার্থ পরিহার করেআগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলের ভিত্তিকে মজবুদ করতে হবে এবং ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের বর্তমান অভাবনীয় উন্নয়নে অগ্রযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দিন রাত মিথ্যাচার এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আত্মতুষ্টিতে না ভোগে আমাদের ঘরে বসে থাকলে হবে না। কারণ ঘরের দরজায় দুষ্টগ্রহ যেকোন বিষ ফণা তুলতে পারে। ছোবল দেওয়ার আগেই ঔ ফণার মস্তক অবনত করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পদ্মাসেতু আত্ম মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক। বাংলাদেশ আজ মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাহসী নেত্রী হিসেবে তিনি বিশ্বনন্দিত এবং তিনি প্রমাণ করেছেন কোন কিছুই অসম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাছান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ সমশের, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান বুলু, এড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, আবদুল লতিফ টিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. জিয়া উদ্দিন, মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, মহানগর তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মানিক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে সহ-সভাপতি আবদুর রশিদ লোকমান, মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা সায়েরা বানু রুশ্মি। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, উপদেষ্টা আলহাজ্ব শফর আলী, শেখ মো. ইসহাক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমেদ, মাহবুবুল হক মিয়া, জোবায়রা নার্গিস খান, আবদুল আহাদ, আবু তাহের, ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, মো. শহিদুল আলম, জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কিষান চৌধুরী, জাফর আলম চৌধুরী, সৈয়দ আমিনুল হক, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, বখতেয়ার উদ্দিন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, হাজী দোস্ত মোহাম্মদ, মো. জাবেদ, হাজী বেলাল আহমেদ, মোরশেদ আকতার চৌধুরী।
আওয়ামীলীগের প্রাথমিক সদস্য হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক তিন নেতা সভায় মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক এইচ.এম জিয়্উাদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক কে.বি.এম শাহজাহান ও মো. সালাহ উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।