পটিয়ায় লুটপাট ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন বুধপুরা কাশিয়াইশ ইউনিয়নে অগ্নিসংযোগ, ভাঙ্গচুর, লুটপাট, হামলা ও মিথ্যা মামলা করার প্রতিবাদে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা গ্রামের কালু মেম্বার বাড়ীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কাইছ। শনিবার (২১ মে) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ
সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২২ ই মার্চ পবিত্র রমজান মাসে অত্র ইউনিয়নে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই এবিএম সোহেল চৌধুরী রাত আনুমানিক ৯ টা ৪৫ মিনিটের সময় দুষ্কৃতকারীদের ছুরির আঘাতে মর্মান্তিক ভাবে নিহত হয়েছে।
উক্ত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি আমি। উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়টি আমার সম্পূর্ণ অজানা ছিল এবং আমি তখন শহরের বাসায় ছিলাম । তার প্রমান আমি ঐসময় আমার শহরের বাসায় থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোনে কথা বলার তথ্য প্রমান রয়েছে । কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় , এ হত্যার ঘটনায় আমাকে প্রধান আসামীসহ আমার নির্বাচনে যারা আমার সাথে ছিল মোট ৮ জন সহ আরো অজ্ঞাতানামা ১০ / ১২ জনকে আসামী করে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কাসেম চেয়ারম্যান পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং -০৪( ৪ ) ২২ তারিখ ২৩ / ০৪ / ২০২২ ইং ধারা
১৪৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২ পেনাল কোড । অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে , হত্যাকাণ্ডের সাথে আমি বা ৪ নং আসামী আমার ছোট ভাই সুমন ও ৬ নং আসামী জসিমুল আনোয়ার খান , ৭ নং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গাজী আজগর আলী কে কাল্পনিক আসামী করা হয়েছে । যেখানে ঘটনার সময় আমরা শহরে অবস্থান ছিলাম সেখানে আমাকে ১ নং আসামী করে আমার চুরির আঘাতে নিহত হয়েছে মর্মে আমার প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান একটি মিথ্যা বানোয়াট কাল্পনিক এজাহার দায়ের করে । এই আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে বাস্তবতা নিরক্ষণ না করে পটিয়া থানার বর্তমান ওসি এবং পটিয়া সার্কেল অফিসার মিলে আমাদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের মামলাটি গ্রহণ করেন এবং মামলায় জড়াতে ও সংবাদ সম্মেলন ঠেকাতে কাসেম চেয়ারম্যান নিজেই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন।এর পরও ক্ষ্যান্ত না হয়ে সার্কেল এসপি ও থানার ওসি দুইজনে আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুযায়ী আমার লোকদের মামলার আসামি করে ঘরছাড়া করছেন।
তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান কাসেম ঘটনার পর পর আমার বাড়িতে তার নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র যুবক দিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালায় । সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি নির্মাণের জন্য আনা ৪ টন লোহার রড , দুইশত বস্তা সিমেন্ট , পাঁচহাজার ইট , দুই হাজার কার্টন এর অধিক টাইলস্ ট্রাক বোঝাই করে লুঠকরে নিয়ে যায় । যার মূল্য আনুমানিক ১০ হতে ১২ লক্ষ টাকা হবে । তখন বাড়িতে অবস্থানরত আমার বৃদ্ধ মা বাবা’র উপরও হামলা চালায়। পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাকে হত্যা করবে মর্মে হুমকি দিতে থাকে । শুধু তাই নয় , চেয়ারম্যান কাশেমের নেতৃত্বে আমার বাড়িসহ আমার সমর্থকদের আরো ১০ / ১২ টি বাড়ীতে অনুরূপ তান্ডবলীলা চালিয়ে লুটপাট করে এবং সমর্থক জাহাঙ্গীরের মুদির দোকান “ নিমতলী শাহ্ স্টোর ” হতে আনুমানিক ৫/৬ লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ ৫০,০০০ টাকা এবং এরফানের ফার্নিচার দোকান “ নূরে মদিনা টিম্বার এন্ড ফার্নিসার মাট ” হতে আনুমানিক ৭/৮ লক্ষ টাকার ফার্নিসার সমাগ্রী , বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবুল কাশেম এর স’মিল হতে গাছের রদ্দা নিয়ে যায় এবং স’মিলে আগুন ধরিয়ে দেয় । যা নিরপক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রমান পাওয়া যাবে ।
তিনি বলেন, কাসেম চেয়ারম্যান সারা জীবন বিএনপি রাজনীতি করতো , পটিয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী তার আত্বীয় , এই সুবাদে সে ব্যাপক অপকর্ম করলেও কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনা । তার বিরুদ্ধে এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের জায়গা দখল , মসজিদের জায়গাদখল , শ্মশান দখল , জহুর হকারস মার্কেটের মুখে জায়গা দখল করে চেয়ারম্যান হোটেল বানানো , পুরাতন বাকলিয়ায় থানার পার্শ্বে জনৈক সোহেলের জায়গা অন্যায় ভাবে দখলে রাখা সহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে । গত নির্বাচনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নৌকা মার্কার টিকেট নিয়ে নির্বাচন করেছে , এতে সে ব্যাপক ভোট কারচুপি করে মাত্র ৯৯ ভোটে তাকে জয়ী দেখায় । এনিয়ে নির্বাচনী ট্রইব্যুনালে তার জালিয়াতির বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলছে । পাটিয়াতে এই কাসেম চেয়ারম্যানের অপকর্মে বর্তমানে সহায়তা দিচ্ছে থানার ওসি এবং সার্কেল এসপি ।
এসময় তিনি পুলিশ সুপারের প্রশংসা করে বলেন, অত্যান্ত মানবিক অফিসার পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ । ঘটনার পর থেকে কাসেম চেয়ারম্যানের লালিত পালিত গুন্ডাদের অত্যাচার নির্যাতনে কাশিয়াইশের হাজারো মানুষ যখন ঘরবাড়ী ছাড়া , ঈদের সময়ে বুধপুরা বাজারের দোকান পাঠ বন্ধ থাকা , পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় লোকজন যখন বাড়ী ঘরে যেতে পারছেন না তখন ন্যায়পরায়ন পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে এজাহার নামীয় আসামী ছাড়া এলাকার শত শত মানুষকে ঈদ উদযাপনের ব্যবস্থা করেদেন শ্রদ্ধেয় মানবিক পুলিশ সুপার । সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ,যুবলীগ নেতা আজগর আলী ,আব্দুল জলিল, মোহাম্মদ আলী, জহির উদ্দিন, মিসেস কুলসুমা, ময়ুর খাতুন ও আলমাস খাতুন।