চট্টগ্রামে পাহাড়কাটা ও মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দক্ষিণ পাহাড়তলী পাহাড়ি ভূমির মাটি ও মাদক বিক্রি বন্ধের প্রতিবাদের জের ধরে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক ফটো সাংবাদিক ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে সংঘবদ্ধ একটি দল। আহত সাংবাদিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার কর্মরত আছেন। শনিবার (১৪ মে) সকালে হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার মিজানুর রহমানের বসত ঘরে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় সংঘবদ্ধ চক্রটি। এ ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ইমরানে হোসেনের ছেলে মো. রবিউল হোসেন (৩০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. মহিন (৩৫) ও মো. খালেক (৩৭), মোসাম্মৎ কালুনি (৪০) এবং আনোয়ারা বেগম (৪২) সহ পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হাটহাজারী থানার দক্ষিণ পাহাড়তলীর ৩নং বাজার রবি টাওয়ার সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ডের কাশেমের বাড়ির বাসিন্দা। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায় , সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ছোট বোন নাসিমা বেগমের স্বামী মো. মিজানুর রহমানের প্রতিবেশিরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা সংগঠিত করে আসছে। পাশাপাশি তারা সরকারি পাহাড়ি ভূমির মাটি কেটে বিক্রয় করে আসছে। মাটি কাটার কারণে উক্ত পাহাড়ি ভূমি ধসে পড়ে বসবাসরত অন্যান্য লোকজনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। ফলে তৎসংলগ্ন বসতবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বোন, ভগ্নিপতিসহ জাহাঙ্গীর প্রতিবাদ করলে ভগ্নিপতি মিজানুর রহমানকে মারধরের চেষ্টাসহ বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকী দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে তারা লাঠিসোটা নিয়ে দলবব্ধ হয়ে মো. রবিউল হোসের নির্দেশে সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটায়। লাঠির আঘাতে জাহাঙ্গীরের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়। তাকে বাঁচাতে তার ভগ্নিপতি এগিয়ে আসলে তাকেও তারা মেরে জখম করে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন. তারা দীর্ঘদিন এলাকায় মাদক ব্যবসা, পাহাড়ি মাটি কেটে বিক্রয়ের সাথে জড়িত। পাহাড়ে মাটি কাটা নিয়ে প্রতিবাদ করার জেরে তারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে আমার ওপর লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা শেষে বাসায় আছি। এবিষয়ে স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ি ভূমির মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে দলবদ্ধ চক্রটি। মাটি কাটার ফলে বসত ঘরগুলো ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকায় বসবাসকারীরা কখনও মাটি কাটার প্রতিবাদের মুখ খুলতে সাহস করেনি। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সিটিজি নিউজকে বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.