নগরীতে উপাদানসহ অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য আটক


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের অভিযানে মোঃ মহিউদ্দিন (৩০), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪২) ও মোঃ কামাল হোসেন (৩২) নামের অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় ৩ সদস্যকে উপাদানসহ আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চেতনা নাশক মলম, পাউডার, ট্যাবলেট, হালুয়া,মধু ও অন্যান্য উপাদান উদ্ধার করা হয় বলে জানা যায়। রোববার (৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় নগরীর মনছুরাদস্থ গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ কামরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে কামরুল ইসলাম জানান, মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেনের সার্বিক দিক নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ কামরুল হাসান এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ টিম ৫ মার্চ ৭.২০ ঘটিকায় খুলশী থানাধীন ফয়ে’স লেক প্রবেশ মুখ সংলগ্ন ফয়ে’স লেক জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টির এ তিন সদস্যকে আটক করে। এই সময় তাদের কাছ থেকে ২টি ছোট কাঁচের বোতল ভর্তি চেতনা নাশক পাউডার, মেরিল এর কৌটায় বিশেষ কায়দায় তৈরী করা চেতনা নাশক হালুয়া যার ওজন আনুমানিক ৫ গ্রাম, ১০টি সেডিল ট্যাবলেট, ৩৮টি জিরো ট্যাবলেট, ২০টি ডরমিটল ট্যাবলেট, সাদা প্লাস্টিকের কৌটায় অনুমানিক ১০০ গ্রাম কালো রংয়ের পাউডার, সাদা প্লাষ্টিকের কৌটায় বিশেষ কায়দায় তৈরী কালো রংয়ের মলম মিশ্রিত হালুয়া, ১টি কাঁচের বোতলে আনুমানিক ১০০ গ্রাম মধু এবং ১টি ড্রাগন এন্ড টাইগারবাম এর ছোট কৌটা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটককৃত ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার যে এই চক্রটির নেতৃত্ব দেয় মোঃ মহিউদ্দিন। তারা চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন বাস ও রেলওয়ে স্টেশনসহ যাত্রীবাহী বাসে যাত্রী সেজে গাড়ি ও ট্রেনে উঠে সাধারণ যাত্রীদের সাথে বসে সখ্যতা তৈরী করতে থাকেন। তাদের মূল নেতৃত্বদানকারী মোঃ মহিউদ্দিন হকার সাজিয়া বিভিন্ন রোগের ভালো ঔষধ আছে বলিয়া লেকচার মূলক ভাষন দেয়। এক পর্যায়ে তাদের পূর্বের পরিকল্পনা মোতাবেক অপর সহযোগিতা ঔষধ বা হারবাল জাতীয় হালুয়া খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে পরবর্তীতে যেগুলোর মধ্যে কোন চেতনা নাশক ঔষধ মিশ্রিত নাই সেগুলো তাদের খেতে দেয়। তখন তাদের লোকজন অনায়াশে সরবরাহকৃত ঔষধগুলো খেয়ে ফেলে এবং তারা বলে যে এই ঔষধগুলো আমি আগেও অনেক খেয়েছি। আমি উপকৃত হয়েছি মর্মে প্রতারনা মূলক কথাবার্তা বলে। তাদের এইরুপ কথাবার্তা শুনে সাধারণ যাত্রী তাদের সরবরাহকৃত হালুয়া খেতে চাইলে তাদের কাছে থাকা চেতনা নাশক মিশ্রিত হালুয়া খেতে দেয়, হালুয়া খেয়ে যখন সাধারণ যাত্রী অজ্ঞান হয়ে যায় তখন সাধারণ যাত্রীর পাশে বসা তাদের অপর সহযোগী উক্ত যাত্রী টাকা পয়াসা, আশিংকার মোবাইল সহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়া নিয়া যায় আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রী পরিবহনে নিজেরা যাত্রী বেশে ভ্রমন করে ভ্রমণরত যাত্রীদের অজ্ঞান করিয়ে ছিনতাই করে আসছিলো। এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নগরীর খুলশী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ কামরুল ইসলাম।

কেএমরা/ পিবি।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.