কবি সাহিত্যিকদের আকাশের মতো উদার-সমুদ্রের মতো গভীর এবং মানবিক হতে হবে: কবি আসাদ মান্নান


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ ও নাগরিক সমাজের সহযোগীতায় বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বই মেলায় লেখক সমাবেশে প্রধান আলোচক সাবেক সচিব ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি আসাদ মান্নান বলেছেন, আমাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বা জাতি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উপাদানটি হলো রাষ্ট্র ভাষা-আন্দোলন। বাংলাদেশ নামে একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মের সাথে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ওতপ্রতোভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, লেখক, কবি সাহিত্যিকদের আকাশের মতো উদার ও সমুদ্রের মতো গভীর এবং মানবিক হতে হবে। দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ, জনগণের মালিকানা সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা করতে হলে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হুসিয়ারি উচ্ছারণ করে তিনি বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতিয়ার গোলাবারুদের চেয়ে লেখকদের কলম বেশি ধারালো, তাই প্রত্যেক কবি সাহিত্যিককে সেই ধারালো কলমের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আজ (৪ মার্চ) বুধবার বইমেলা মঞ্চে লেখক সমাবশে এসব কথা বলেন।

বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন অমর একুশে বই মেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি আসাদ মান্নান, আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি শুকলাল দাশ, কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ভূমিকা পর্যালোচনা করতে গেলে প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান স্মরণ করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দীর্ঘদিন এ দেশের ইতিহাসবিদরা ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওই অমূল্য অবদানকে সচেতনভাবে আড়াল করে রেখেছিল। একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে কয়েক যুগ ইতিহাস বইগুলোয় ভাষা আন্দোলনের আলোচনায় কোথাও বঙ্গবন্ধুর অবদান স্বীকার করেনি। যদিও ভাষা আন্দোলন সংশিষ্ট ইতিহাসের উৎস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলন সংগঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সরকার সরকারি অফিসে বাংলা ভাষা প্রচলনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধুর সরকারের মতোই ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ভাষা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতায় ১৯৯৯ সালের ১৯নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ এবং প্রায় এক দশক পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদেই ২০১০ সালের ২১অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই থেকেই সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। তিনি লেখকদের বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ বলেন, বাংলাদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে লেখক, সাহিত্যক ও শিল্পীরা অনন্য ভুমিকা পালন করছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে এখনো লেখক, সাহিত্যকেদের ভূমিকা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে মেলা কমিটির আহবায়ক ড. নিছার উদ্দিন আহমদ মন্জু বলেন, নতুন লেখক তৈরী করতে বইমেলার আয়োজন অপরিহার্য। বই মলের কারনে কবি,লেখক ও পাঠকের সম্মিলন ঘটে। তিনি চট্টগ্রামের বই মেলার পরিধি আরো বাড়ানোর চিন্তা আছে বলে মতব্যক্ত করেন।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবি শুকলাল বলেন, বইমেলার মাধ্যমে একুশের চেতনা উজ্জিবিত হয়। এই মেলা সার্বজনিতা পেয়েছে। পাঠকের যে আগ্রহ বেড়েছে তা ধরে রাখতে হবে।

কবি কামরুল হাসান বাদল বলেন, মানুষ এ পর্যন্ত যা সৃষ্টি করছে তার মধ্যে বড় সৃষ্টি হলো বই। বই মানুষকে আলোকিত করেছে।

সমাবেশে কবি, ছড়াকার ও সাহিত্যিকরা তাঁদের লেখা কবিতা, ছড়া ও গল্প বলে সমাবেশকে আনন্দে মখরিত করে তোলে।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.