চট্টগ্রামকে বিদায় করে ফাইনালে কুমিল্লা


সুনীল নারিন, ফাফ ডু প্লেসিসদের ব্যাটে ভর করে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে উঠে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চট্টগ্রামের দেয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে কুমিল্লা।

এর আগে ২০১৫ সালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে ও ২০১৯ সালে ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে ফাইনাল খেলে দুইবারেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারও দলকে নেতৃত্বে দিয়ে ফাইনালে তুলেছেন ইমরুল কায়েস।

চট্টগ্রামের দেয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভারেই ২০ রান নেন ওপেনার সুনীল নারিন। শরিফুলের প্রথম ওভারে লিটন দাস ক্যাচ দেন দেন আকবর আলীর হাতে। পরের ওভারে মিরাজকে তিন ছয় এক চারে মিরাজ-ইমরুল নেন আরও ২৩ রান।

পাওয়ার-প্লেতে চার-ছক্কার ঝড় তুলে মাত্র ১৩ বলে ফিফটি তুলে নেন নারিন। যা বিপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম। এর আগে বিপিএলে ১৬ বলে ফিফটির রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদের।

দলীয় ৫.৪ ওভারের মাথায় সুনীলকে ফেরান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তার আগে ১৬ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় করেন ৫৭ রান।

দলীয় ৭৯ রানের মাথায় নারিনের ফেরার পর ২২ রান করা ইমরুল কায়েসকে ফেরান বেনি হাওয়েল। শেষটা করেন আসেন দুই বিদেশি ফাফ ডু প্লেসি ও মঈন আলী। দুজনের ৫৪ (২৭) রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ৬ ওভার ১ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় কুমিল্লা।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উইল জ্যাকস ইনিংস শুরু করেন প্রথম বলে ফাইন লেগ অঞ্চল দিয়ে চার মেরে। এক ম্যাচ পর দলে ফেরা জ্যাকস যদিও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দলীয় ৩১ রানের মাথায় চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে শহিদুল ইসলামের বলে ১৬ রানে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ছাড়িয়ে যান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আন্দ্রে ফ্লেচারকে। জ্যাকসের মোট রান ১১ ম্যাচে ৪১৪, ফ্লেচারের ৪১০ রান।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা চ্যাডউইক ওয়ালটন হতাশ করেন চট্টগ্রামকে। মাত্র ২ রান করে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফেরেন তানভির ইসলামের বলে।

ওপেনার জাকির হোসেন ১৯ বলে ২০ রান করে ফেরেন মঈন আলীর বলে ক্যাচ দিয়ে। একই ওভারে শামিম হোসেনকে ০ রানে ফেরান মঈন। দলীয় ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া দলকে আরও বিপদে ফেলেন অধিনায়ক আফিফ হোসেন ১০ রান করে মঈনের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে।

৫ উইকেট হারানোর পর লম্বা জুটি গড়েন মেহেদী মিরাজ ও আকবর আলী। দুজনের জুটি ভাঙে ৬১ রান তুলে আকবরের বিদায়ে। ২০ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ৩৩ রান তুলে কট এন্ড বোল্ড হন আবু হায়দারের বলে।

মিরাজ একপ্রান্ত আগলে খেলে যান ১৮.২ ওভার পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৪ রান করে বিদায় নেন শহিদুলের বলে ক্যাচ দিয়ে। তার আগে বেনি হাওয়েল রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩ রানে।

১৯তম ওভারে শহিদুলের ওভারে টানা দুই ছক্কা মারেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তৃতীয় ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন আবু হায়দার রনির হাতে। শেষ ওভারের প্রথম বলে নাসুম আহমেদ এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন মোস্তাফিজের বলে। ১০ উইকেটে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ১৪৮ রান।

কুমিল্লার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন শহিদুল ইসলাম ও মঈন আলী। ১ উইকেট করে নেন মোস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার ও তানভির ইসলাম।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.