শঙ্করমঠের শতবর্ষপূর্তির সাধুভান্ডারা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত
ধর্মবোধ মানুষকে ন্যায়ের শিক্ষা দিয়ে সভ্য করেছেঃ বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীতাকুন্ড শঙ্করমঠের শতবর্ষপূতি উপলক্ষে আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৬ষ্ঠ দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের পরিচালনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় আমন্ত্রিত পূজনীয় সন্তুমন্ডলীর প্রবচন, দুপুর ১টায় সাধুভান্ডারা ও বিকেল ৩টায় ‘যোগদর্শনে স্বামী ব্রহ্মানন্দ পরমহংসদেবের আবদান’ শীর্ষক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শঙ্করমঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের সভাপতিত্বে, প্রমথ সরকার ও তন্বী পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় আর্শিবাদক ছিলেন আমেরিকার কলরেডো নিবাসী ঋষিশ্রেষ্ঠ শ্রীমৎ পরমানন্দ সরস্বতী। সভার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর লায়ন অদুল চৌধুরী। ধর্মসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অরবিন্দ সোসাইটির ম্যানেজিং ট্রাস্টি নারায়ণ কৃষ্ণ গুপ্ত। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তড়িৎ কুমার ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন সীতাকুন্ড লতিফা সিদ্দী্িক ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী, অরবিন্দ সোসাইটির চেয়ারম্যান রতন কান্তি ভট্টাচার্য্য। ধর্মীয় বক্তা ছিলেন শ্রীমৎ সজলানন্দ গিরি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শঙ্করমঠ ও মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুলাল কান্তি চৌধুরী। আলোচক ছিলেন শঙ্করমঠ ও মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর কেশব কুমার চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার অজিত কুমার শীল, সহ-অর্থ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রনজিৎ কুমার মল্লিক ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল। এছাড়া অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকাল থেকে গুরু পূজা, মঙ্গলারতি, প্রাণায়াম, যোগাসন, যোগমুদ্রা প্রদর্শন, অখন্ড গীতাপাঠের ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ মনোহারিত্ব অনুষ্ঠান, শ্রীশ্রীবিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞ, মঙ্গলারতি, গুরু বন্দনা, হরি ওঁ কীর্ত্তন, শ্রীশ্রী চন্ডী ও বেদপাঠ করা হয়। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি, সমবেত প্রার্থনা, পবিত্র ব্যাসকুন্ডের পাড়ে শ্রীশ্রী গঙ্গা মায়ের পূজা, আরতি ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পালা কীর্তনের আয়োজন করা হয়।
ধর্ম মহাসম্মেলনে বক্তারা বলেন, মঠ-মন্দির শুধু ধর্ম চর্চার সাধনা করে না। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। ধর্মবোধ মানুষকে ন্যায়ের শিক্ষা দিয়ে সভ্য করেছে। গীতার আদর্শ ও উদ্দেশ্য বুকে ধারণ করতে পারলে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ হবে। একইসাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান বক্তারা।