আনোয়ারায় হাসপাতালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলো প্রশাসন
সত্তরের দশকে নির্মিত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ভবনের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর ফলে দখল মুক্ত হলো পুরাতন হাসপাতালে প্রায় ৪৫ শতকের ও বেশি জায়গা।
সোমবার ( ৮ নভেম্বর) বেলা ১২টার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান চৌধুরীর নেতৃত্ব এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালা করা হয়।
এসময় পরিত্যক্ত ভবনটিতে দীর্ঘ ২১বছর ধরে বসবাস করা ১২টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, ১৯৭০ বা ৭২ দিকে নির্মিত হয় এই হাসপাতালটি। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের দিকে নতুন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হলে এই হাসপাতালটি তখন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
স্থানীয়রা জানায়, নতুন হাসপাতাল নির্মিত হলে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গা হতে এখানে কিছু ভাসমান লোক স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে থাকে । যাদের নামে বিভিন্ন থানায় অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে নানা অপরাধ কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে তারা মাদক সেবন, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। স্থানীয়রা এসব কাজে বাঁধা প্রদান করলে তাদের সাথে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় বলেও জানান তারা।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু জাহিদ মোঃ সাইফ উদ্দিন, আনোয়ারা থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার, উপ পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) সৈয়দ ওমর।
এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু জাহিদ মোঃ সাইফ উদ্দিন বলেন, পুরাতন হাসপাতাল ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো। সেখানে কিছু অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদকের ব্যবহার, মাদক বেচাকেনা, স্থানীয় এলাকায় ও নতুন হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে চুরি, হাসপাতাল নাইট গার্ডদের হুমকি ধামকিসহ মারধরের অভিযোগ করেছি থানা ও উপজেলা প্রশাসন কাছে। তার প্রেক্ষিতে প্রশাসন আজ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, এটি একটি সরকারি পরিত্যক্ত ভবন। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে যে সব লোক রয়েছে তারা নানা রকম অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে আইনশুঙ্খলা অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আবেদনের পরিপেক্ষিতে এখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আগামী পরশুদিন বিল্ডিং গুলো গুড়িয়ে দিয়ে স্থায়ীভাবে জায়গাটি খালি করা হবে বলে জানান তিনি।