দিন যতই গড়াচ্ছে রাজনীতিতে ততই অবক্ষয় হচ্ছেঃ আ জ ম নাছির


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় চার নেতার রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের কাছে পরিণত হয়েছেন একজন আদর্শিক নন্দিত জননেতা। বাঙালি জাতিসত্তার রক্তক্ষয়ের ইতিহাস শুরু হয়েছিল পলাশীর আম্রকাননে পরাজয়ের মাধ্যমে। সেই আম্রকাননে মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।বুধবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো কারাগার। আর এ নিরাপদ কারাগারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে। অনেক রক্তঘাম, শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। এখন আমরা যারা বেঁচে আছি আমাদের পূর্বসূরী বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা। বুঝতে পারছি, সুযোগ সন্ধানীরা দলে ভিড়েছে। খুনি খন্দকার মোশতাকও ছিলেন সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিবিদ। তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আপোষ করেনি। দিন যতই গড়াচ্ছে রাজনীতিতে ততই অবক্ষয় হচ্ছে। এসব আমাদের সংস্কার করতে হবে। আদর্শ ও নীতি নৈতিকতাবিরোধী ব্যক্তি বা মহলের অনুপ্রবেশ যে কোনও মূল্যেই বাধা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যে আওয়ামী লীগ করে সে কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা। আমাদের মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো বসে নেই, তাদের প্রেতাত্মা ও বসে নেই। এরা আমাদের মাঝেই আছে।

এসময় তিনি থানা ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠনের লক্ষে নেতা উদ্দেশ্য বলেন, দলে তথ্য ফরম কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভুল তথ্য দিয়ে কেউ যাতে দলে স্থান না পায় সে ব্যাপারে তৃণমূল স্তর থেকেই সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানান এবং আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে ইউনিটের সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন,
বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় এদেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং তিনি তা টেরও পেয়েছিলেন। যখন তিনি ষড়যন্ত্র নির্মূলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন তখনই তাকে ষড়যন্ত্রকারীরা সপরিবারে হত্যা করে। তারপর থেকে এদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জন একে একে বিসর্জন দিয়ে এদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করা হয়। ৩ নভেম্বর একটি নিষ্ঠুরতম ট্রাজেডি। তবে এতে জাতীয় চার নেতা প্রমাণ করেছেন আদর্শিক রাজনৈতির মৃত্যু নেই। তারা রক্ত দিয়ে ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে পা রাখেননি এবং শহীদ হয়েছেন। সর্বোপরি তারা বঙ্গবন্ধুর মত ও পথকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। এখন ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মোহাম্মদ হাছনীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শফর আলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী জহুর আহমদ, মো. আবু তাহের, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য জাফর আলম চৌধুরী, এড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ও চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ হাসান মাহমুদ চৌধুরী শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাজী মো. হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, আবদুল আহাদ, শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আমিনুল হক, আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কিষাণ চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, আবদুল লতিফ টিপু, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমেদ, মোরশেদ আকতার চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া ১৫টি থানা, ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়করা উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.