পূজামন্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি নয়ঃ সিএমপি কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারি অন্যান্য সংস্থা ও দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর দাম পাড়াস্থ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।
সভায় করোনার এই প্রাদুর্ভাব পরবর্তী সময়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে
সরকারি অন্যান্য সংস্থা ও দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্ব ও ভূমিকা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে নগরীর জনসাধারণকে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ পালনের বিষয়ে সচেষ্ট থাকার অনুরোধ করা হয়।
সভায় সিএমপি কমিশনার বলেন,
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। পূজাকে কেন্দ্রকরে উৎসবের আমেজ পুরো দেশে। ব্যতিক্রম নয় চট্টগ্রাম মহানগর। নগরের ২৭৭টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর এসব মন্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ সব ধরনের বিষয় মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামন্ডপে কোনো ধরনের ডিজে পার্টি হবে না। কোন ধরনের আতশবাজি না ফুটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে গুজবে কান না দিয়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানাই। পূজার আমেজকে সম্প্রীতি ও আনন্দ উৎসবে পরিণত করতে হবে। কোনো অপরাধকে সুযোগ দেব না। দুই একটি বিশেষায়িত পূজামন্ডপ ছাড়া নির্দিষ্ট ফোর্স রাখা হবে না। মোবাইল টহল টিমের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। সব পূজামন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, সব পূজামন্ডপে ঢোকার সময় করোনার প্রেক্ষাপটে স্যানিটাইজার, মাস্ক থাকবে। কোনোভাবেই মাস্ক পরা ও স্যানিটাইজার ছাড়া পূজামন্ডপে কেউ যাতে ঢুকতে না পারেন বিষয়টি পূজা উদযাপন পরিষদ নিশ্চিত করবে। দর্শনার্থীরা মন্ডপে জটলা না করে পূজামন্ডপে ঢুকবেন আশা করি। প্রতিমা বিসর্জন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুচারুরূপে পালন করতে সব গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি এসময় বলেন, পূজামন্ডপসমূহের প্রবেশমুখে পুরুষ ও নারীর জন্য পৃথক ভাবে হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও থার্মাল স্ক্যানার রাখা। পূজামণ্ডপে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। মন্ডপের চারদিকে বা উপরের অংশ উন্মুক্ত রাখতে হবে। মন্ডপের ভিতরে অধিক লোক অবস্থান না করা। প্রসাদ তৈরী ও বিতরণ সীমিত পর্যায়ে করা। প্রতিমা তৈরির সময় নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। মন্ডপের প্রবেশমুখে ভীড় নিয়ন্ত্রণ করা এবং দর্শনার্থী আগমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করতে হবে। জরুরী সেবাদানকারীদের ফোন ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। বিদ্যুতের ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ দ্রুত মেরামত করতে হবে। সার্বক্ষনিক একজন ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগ রাখতে হবে। নিরাপদ স্থানে পূজা মন্ডপ স্থাপন করতে হবে। হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। ফায়ার এক্সটিংগুইসার এর ব্যবস্থা করা। পানির ব্যবস্থা করে রাখা। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের জরুরী সেবার নম্বরসমূহ দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। মন্দির বা পূজামন্ডপে কোন প্রকার থিম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি না করা। পূজা কমিটি নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব থাকলে নিজেরা অথবা মহানগর পূজা কমিটির সাথে আলোচনা করে মীমাংসা করা। অজ্ঞানপার্টি ও মলমপার্টি থেকে সতর্ক থাকা। অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কোন কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকা।
নামাজ ও আযানের সময় সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখা। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যতিত যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করা। নারীরা যেন ইভটিজিং এর শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পূজামন্ডপে আগত মহিলাদের উত্যক্ত ইভটিজিং প্রতিরোধ করা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথ তৈরী করা। মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা। পূজামন্ডপের ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক সার্বক্ষণিক নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা। স্বেচ্ছাসেবকদের চেনার সুবিধার্থে গেঞ্জি, ক্যাপ, আর্মডব্যান্ড ব্যবহার করা।
স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট প্রেরণ করা। ঘটনার সংবাদ দ্রুততার সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা।
মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য গ্রহন করা থেকে বিরত থাকা। পূজা মন্ডপের আশেপাশে মেলা বা জুয়ার আসর না বসানো। কোন ধরনের আতশবাজি বা পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকা সহ
যেকোনো ধরনের গুজব বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে নিকটস্থ থানা বা পুলিশ কে অবহিত করার অনুরোধ জানান সিএমপ কমিশনার।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোঃ শামসুল আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ আমির জাফর, অন্যান্য উপ-পুলিশ কমিশনার , অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, অফিসার ইনচার্জ , র্যাব, এপিবিএন, এনএসআই, ডিজিএফআই, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি এর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগরীর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য ও সেক্রেটারী হিল্লোল সেন উজ্জ্বল সহ সকল থানার পূজা উদযাপন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।