সচিব পরিচয়ে চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১


চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব পরিচয় দিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সেকান্দর আলীকে (৫৫) নামের এক জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লক সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সেকান্দর আলী নগরীর চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা সদর আলী মুন্সির বাড়ির মৃত জাফর আহম্মদের ছেলে।

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, রিয়াজউদ্দিন বাজারস্থ মুরগীহাটা লেইনে মোঃ আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তির একটি চায়ের দোকানে নুর মোহাম্মদ নামের অন্য এক ব্যক্তির সাথে সেকান্দর আলী প্রায় সময় চা খাওয়ার জন্য আসতো। আসা যাওয়ার সুবাদে নুর মোহাম্মদ সেকান্দর আলীকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব বলে চায়ের দোকানদারের সাথে পরিচয় করে দেয়। সচিব বলে জানার পর দোকানদার আবুল কাশেম তার ছেলেকে চাকুরী দেওয়ার জন্য বললে আবুল কাশেমের নিকট তারা ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরে সেই সুবাদে আবুল কাশেম সরল বিশ্বাসে প্রথমে ৩ লাখ পরবর্তীতে সাড়ে ১১ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল বন্ধ পান। পরে আবুল কাশেম প্রতারণা পূর্বক টাকা আত্মসাৎ করে মর্মে থানায় এজাহার দায়ের করলে কোতোয়ালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এর নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানার টিম চান্দগাঁও থানাধীন চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লক সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সেকান্দর আলীকে গ্রেফতার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে স্বীকার করে বলে জানান পুলিশ।

আরও জানা যায়, সেকান্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব পরিচয় দিয়ে নগরের ও জেলার বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের বন্দরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অগ্রীম টাকা গ্রহণ করত। পরবর্তীতে ইন্টারনেট থেকে ভুয়া নিয়োগপত্র সংগ্রহ করে প্রার্থীদের বাসায় এবং ভুয়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাগজ ডাকযোগে থানায় পাঠাত। থানা থেকে পুলিশ চাকরি প্রার্থীদের বাড়িতে গেলে সেকান্দার চাকরি প্রার্থীদের নিকট থেকে চাকরি হয়ে গেছে বলে অবশিষ্ট টাকা আদায় করত। সেকান্দর একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। প্রতারণা করে জীবিকা নির্বাহ করাই একমাত্র উৎস। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের সরলতার সুযোগে চাকরি দেবে বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সঙ্গবদ্ধভাবে বন্দর থেকে বিভিন্ন মালামাল নিলামের তথ্য সংগ্রহ করতেন। বিভিন্ন লোকজনের নিকট বন্দরের উক্ত নিলাম পণ্য নিয়ে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে আত্মগোপনে চলে যেতো বলে বলে স্বীকার করে সেকান্দর।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.