ধান উৎপাদনে কৃষিতে এগিয়েছে পাহাড়ের জনজীবন!
মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: কৃষিতে সনির্ভর হচ্ছে পাহাড়ের জনজীবনে। কৃষি ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সমিক্ষায় উঠে এসেছে এই চিত্র। বান্দরবানে কৃষি এবং কৃষকের সুদিন আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর প্রচেষ্টার ফলে কৃষিতে সনির্ভর হচ্ছে পাহাড়ের জনজীবন।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার উপঃ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম.এম. শাহ নেওয়াজ জানান, ২০২০-২১ অর্থ বছরে কৃষি এবং কৃষি জাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় এ বছর আমরা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছি। কৃষকের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বান্দরবানে।
চলমান বছরে প্রনোদনা রাজস্ব এর আওতায় আমন ধানের বিজের বরাদ্দ অনুযায়ী বান্দরবান সদর উপজেলায় ১০০ জন, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ৮০ জন, রুমা উপজেলায় ২০ জন, লামা উপজেলায় ১০০ জন, আলীকদম উপজেলায় ১০০ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০০ জন সহ মোট ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ২৩৯০ কেজি ব্রি ধান-৪৯,১১০ জন কৃষকের মাঝে ব্রি ধান-৫২ সহ মোট ২৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিঘা প্রতি ৫ কেজি করে বিজ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে।
প্রনোদনার আওতায় আউশ ধানের বীজ বরাদ্দ অনুযায়ী সদর উপজেলায় ৬০০ জন, রোয়াংছড়ি উপজেলায় ১০০০ জন,রুমা উপজেলায় ৫০০ জন,লামা উপজেলায় ২০০০ জন,আলীকদম উপজেলায় ১৯০০ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৭০০ জন সহ মোট ৭২০০ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ৩৬০০০ কেজি ধানের বিজ বিতরণ করা হয়েছে।এছাড়াও হাইব্রিড জাতীয় ধানের বিজ ২ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি বিজ কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও রাজস্ব খাতের আওতায় আউশ প্রদর্শনী খাতে জেলার ১১০ জন কৃষকের মাঝে ৫৫০ কেজি বিজ বিতরণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবান।
জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার আরো জানান আমরা প্রতি নিয়তই কৃষকের চাষাবাদ ও ফলন বৃদ্ধির ব্যাপারে সচেতন। এ জন্য মাট পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছি। কোন সময় কোন সার বা বিজ ব্যবহারে ভালো ফলন পাওয়া যাবে তা তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেই।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেই দিকে আমরা খেয়াল রাখি। একজন কৃষক চাইলে তার উৎপাদিত ধান ন্যায্য মূল্যে সরকারের কাছে বিক্রয় করতে পারেন। কোন কৃষক যদি আমাদের কাছে সেই সহযোগিতা চায় সে জন্য আমরা তাদের সঠিক নির্দেশনা প্রদান করবো। পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ইতিমধ্যে জেলার প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধার জন্য কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান করেছেন।
বান্দরবানের সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের টইংটং পারা এলাকার অংবা থোয়াই একজন কৃষক জিনি এই মৌসুমে চাষ করছেন বারি -৩৯ ধান ও ভারতীয় পাঞ্জা। তিনি জানান, এ বছর ও বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারন অফিস থেকে বারি ৩৯ ধানের বিজ ফ্রি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এ বছর যারা ফ্রি বিজ পেয়েছেন পরবর্তী বছর তারা আর পাবেন না।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, জেলা এবং উপজেলায় কৃষকদের মাঝে একটা টিম আমরা করে দিয়েছি এবং তাদের চাষাবাদের প্রবৃদ্ধির উপর আমরা তাদের ফলোআপে রাখি। কিভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে পাহাড়ি সমতল এলাকায় প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে অংবা থোয়াই বলেন ধানের চারা ২-৩ দিন শুকিয়ে রাখা হয় ভালো ফসলের আশায়। ভারতীয় পাঞ্জা ধানের বিজ সংগৃহীত হয়েছিলো তাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে।পর্যায়ক্রমে তা তাদের হাতে এসেছে এবং এখনও ধান ঘরে তোলার পর পরবর্তীতে চাষাবাদের জন্য যত্ন সহকারে ধানের বীজ সংগ্রহ করে রাখা হয়। প্রতি কানিতে ৭০-৮০ আরি অর্থাৎ ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি ধান তারা মৌসুমে ঘরে তুলতে পারে। পরবর্তী মৌসুমে ধান উৎপাদনের জন্য ১ কানির জন্য ১০ কেজি করে বিজ সংগ্রহ করে রাখা হয়। কৃষকের প্রত্যাসা পার্বত্য অঞ্চলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার আরো বেশি আন্তরিক হবে। বদলে যাবে পাহাড়ের কৃষকদের দিন।