শহীদ ওমর ফারুক হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন


মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়ি পাড়ার নওমুসলিম শহীদ মোঃ ওমর ফারুক হত্যাকান্ডের বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

শুক্রবার সকাল ১১ টায় সংগঠনের সভাপতি কাজী মোঃ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এতে উপস্থিত ছিলেন মোঃ নাছির উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা, বীর মুক্তিযুদ্ধা ক্যাপ্টেন মোঃ তারু মিয়া সহ সংগঠন ও অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতা কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে কাজী মজিবর রহমান বলেন, পাহাড়ী বিছিন্নতাবাদী জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইসলামে নবদীক্ষিত ওমর ফারুক ত্রিপুরা ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধর্ম প্রচার ও পালনে বাধা প্রদান করে আসছিলো। তারা ১৮ই জুন সুপরিকল্পিত ভাবে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯ টায় তাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনি এই নিঃসংশ হত্যাকান্ডে পার্বত্য অঞ্চলের মানবাধিকার সংস্থা গুলো এবং দেশের প্রগতিশীল সুশীল সমাজের নিরবতার সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষ এই সব মানবাধিকার সংস্থা গুলোর নিরবতায় বুঝতে পারছে না তারা কেন এই হত্যা কান্ডে কোন মানববন্ধন কিংবা কোন প্রতিকৃয়া জানালেন না।বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সহ ২৬ টি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ব্যাবসা পরিচালনায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দেয়া লাগে। তারা দেশের মধ্যে আরেকটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩ টি নৃগোষ্ঠীর অনেক সদস্য শান্তিপ্রিয় এবং দেশের সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও প্রশাসনিক সেক্টরে তারা কাজ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এর দাবী শহীদ ওমর ফারুকের হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে অনেক দিন হলো এখনো প্রশাসন হত্যাকারীদের শনাক্ত কিংবা গ্রেফতারের কার্যত কোন ব্যাবস্থা চোখে পড়ে নি।

সর্বশেষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি কাজী মজিবর রহমান বলেন, আমার ভরসার আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন অচিরেই পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বন্ধ ও যৌথ অভিযানে পরিচালনার মাধ্যমে হত্যাকান্ডে জড়িত জেএসএস রোয়াংছড়ি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমা, অপু চাকমা, সার্জেন্ট অবঃ নু ছো মং, তুলাছড়ির দেবেন্দ্র ত্রিপুরা, দানিয়েল ত্রিপুরা ও সুফল ত্রিপুরাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.