বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির মহানায়ক: মাহতাব উদ্দিন


চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতিক। তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই বুঝেছিলেন স্বাধীন ভূখন্ড ছাড়া বাঙালীর অধিকার আদায় ও পরিপূর্ণ মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়, তাই তিনি ’৪৮ সাল থেকেই স্তরে স্তরে বাঙালীর মুক্তি অর্জনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন।

আজ বুধবার, ১৭ মার্চ সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব  কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ’৬৬ সালের ৬দফা ঘোষণা ছিল বাঙালীর মুক্তি সনদ। যেদিন তিনি লাহোরে বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক কনভেনশনে ৬ দফা উত্থাপন করেন সে দিনেই পাকিস্তানী শাষক গোষ্ঠী বুঝে ছিল বাঙালীকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধু এও বুঝেছিলেন পাকিস্তানীরা তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী আক্ষায়িত করতে না পারে। তাই তিনি ’৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে কৌশলী পদক্ষেপে ৭ মার্চ ডাক দেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাই বঙ্গবন্ধর জন্মই বাংলাদেশের জন্য।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের স্থপতি বা জাতির পিতাই নন, তিনি তৃতীয় বিশ্বের ভাগ্যহত অধিকার বঞ্চিত শোষিত মানুষের মুক্তির মহানায়ক। ’৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতায় মুগ্ধ বিশ্বনেতা জুলিয়ান নায়ারে, কিউবার ফিদেল ক্যাস্ট্রো, আলজেরিয়ার বুমেদিন বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, আপনি ’৭৩ জাতি জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন, কারণ আপনার যোগ্যতা আছে। আপনার আগে কেউই বিশ্বের শোষিত মানুষের পক্ষে ঘোষণা দেয় নি এতে প্রমাণিত বঙ্গবন্ধু কত বিশাল ও বিশ্ব জনিন নেতা।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর মত একজন মহামানবকে এখনও অনেকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে কুন্ঠাবোধ করেন। কারণ তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বঙ্গবন্ধুকে নিষিদ্ধ করে পাপাচার করেছে। এখন এরা ইস্যুহীন রাজনীতি করছে। এদের মন থেকে পাকিস্তান প্রেমের আলামত এখনও মুছে যায় নি। তিনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু ব্যক্তি নন, একটি আদর্শ। এই আদর্শকে অন্তরে ধারণ করতে না পারলে আমরা দেশ প্রেমিক হব না। দেশ প্রেম ছাড়া রাজনীতি অর্থহীন ও পথ হারা উদ্ভান্ত মানুষের নষ্টামি মাত্র।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, থানা আওয়ামী লীগের হাজী সিদ্দিক আলম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মোঃ ইকবাল হাসান, মোঃ ইয়াকুব, সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইছহাক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শফিক আদনান, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, হাজী মোঃ হোসেন, হাজী জহুর আহমেদ, দিদারুল আলম চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, ডা: ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, মোঃ শহীদুল আলম, নির্বাহী সদস্য এম.এ জাফর, সৈয়দ আমিনুল হক, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, হাজী বেলাল আহমেদ, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ, মোঃ ইলিয়াছ, রেজাউল করিম কায়সার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আতিকুর রহমান, সৈয়দ মোঃ জাকারিয়া, কাজী রাশেদ আলী জাহাঙ্গীর, নুরুল আজিম নুরু, মোঃ জানে আলম, স্বপন কুমার মজুমদার, রফিকুল হোসেন বাচ্চু, ইস্কান্দর মিয়া, আব্দুল মান্নান, ফয়জুল্লাহ বাহাদুর, সালাউদ্দীন ইবনে আহমেদ, মোঃ মুসা, ইফতেখারুল আলম জাহেদ প্রমুখ।

সভা শেষে বর্ণাঢ্য র্যালী উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব  উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন।

র্যালীটি শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে নিউ মার্কেট, রেলওয়ে ষ্টেশন হয়ে দারুল ফজল মার্কেটে এসে সমাপ্ত হয়। এছাড়া দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনোপলক্ষে সকালে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, মাইকযোগে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সম্প্রচার এবং আলোচনা সভার প্রারম্ভে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্ম সম্পাদক হাজী জহুর আহমদ।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.