চট্টগ্রাম নগরীকে পর্যটন নগরী করা কোনো ব্যপার নয়: এম রেজাউল করিম
কে এম রাজীব: চসিক নবনির্বাচিত মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, স্বপ্ন না থাকলে কেউ সামনের দিকে এগুতে পারেনা।আমার একটি স্বপ্ন ছিলো তাই আমি সামনের দিকে এগুবার চেষ্টা করছি। কিছু করতে হলে প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকতে হয়।তাই আমার স্বপ্ন ছিলো বলে আজ আমি জনগনের সহযোগিতায় নগরকে একটি সুন্দর নগর গড়ে তোলার লক্ষে মেয়র নই একজন নগর সেবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি।আর চট্টগ্রাম নগরের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমাকে মনোনীত করায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ।
রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বি আই পি লাউঞ্জে সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময় সভায় নব নির্বাচিন মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি সেটি আমার স্বপ্ন। আমি নির্বাচনি ইস্তেহারে যা বলেছি তা বাস্তব, অবাস্তব কোনো কিছু আমি বলিনি। আমি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুরোনো ধারাকে পরিবর্তন করতে চায়। এবং সকল শ্রেনির গ্রহণ যোগ্য পরামর্শ নিয়ে নতুন ধারা নিয়ে সকলের সহযোগিতায় আমি এগিয়ে যেতে চায়।এ শহর আমার, আপনার সবার। এ নগর কে সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে। যদি পারা যায় পরিত্যক্ত সরকারি জায়গা শিশুদের মাঠ করবো।
এসময় তিনি আরও বলেন, সমন্বয়ের অভাবে চট্টগ্রামে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়নি। প্রত্যেকের মতামতকে গ্রহণ করে আমি চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। চট্টগ্রাম নগরীকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা কোনো ব্যাপার না। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। আর যারা জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধা সৃষ্টি করে অনেকে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মান করে বসে আছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে বলে জানান রেজাউল করিম চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, আমি পাঁচ বছরে কিছু না করতে পারলেও আমি সূচনা করে যাবো যাতে আমার পরবর্তীরা এসে সেটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমি চাই প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষ যেন চিকিৎসায় অবহেলিত না হয়, সে জন্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র চালু করতে। সন্ত্রাস ও মাদকের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে সায়েস্তা করা হবে এবং সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান নব নির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, জন প্রতিনিধিদের তথ্যের ভান্ডার সাংবাদিকবৃন্দ। যখন সাংবাদিকরা কোনো প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে না, তখন প্রতিষ্ঠান নির্জীব হয়ে যায়। গণমাধ্যমে সংবাদ দেখব প্রতিষ্টানের সমালোচনা, ব্যক্তির নয়। প্রতিষ্টানের সমালোচনা মানে মেয়রের নয়। প্রতিষ্টানের কর্মকর্তরা স্থায়ী তাই আপনারা সৎ সাহস নিয়ে তথ্য তুলে ধরেন। তা না হলে প্রতিষ্ঠান গুলো নির্জীব হয়ে যাবে। আপনি সুশিক্ষিত সন্তান, আপনি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়েছেন, এটাই চিন্তার ভিন্নতা।আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা দেখি। এতে কাজের সুবিধা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক খবর সংবাদপত্রে পাই। এরপর মার্ক করেদিতে পারি সমস্যা সমাধানের জন্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে আমাদের মধ্যে। সমন্বয় ছোট শব্দ, বাস্তবায়ন কঠিন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্জ্ব আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি সালাউদ্দিন মোঃ রেজা, সাবেক সভাপতি কলম সারোয়ার, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন।