রাউজানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাউজান থানার আবুরখীল দক্ষিণ ঢাকাখালী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ” মনো কামনাপূর্ণ বিশ্বশান্তি বুদ্ধ ধাতু জাদী ” তে পঞ্চশীল প্রার্থনা ও ধর্মীয় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাড়ম্বে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠান।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে জাদীর মাঠ প্রাঙ্গণে জয়ীতা বড়ুয়া জুঁই ও তার দলের নৃত্যের শুভ সূচনার মধ্যদিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভারপ্রাপ্ত বৌদ্ধ সংঘ নায়ক বনশ্রী মহাথের এর সভাপতিত্বে এবং অলকেশ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভয়ানন্দ মহাথের। অনুষ্ঠানের উদ্ভোধক ছিলেন সৌরভ বড়ুয়া, প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন ধর্মপ্রিয় থের। প্রধান আলোচক ছিলেন চম্পাকলি বড়ুয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য তাপস বড়ুয়াসহ প্রমুখ।

এসময় চীবর দানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান অতিথি তার দেশনায় বলেন, ‘চীবর’ মানে ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র। গাছের শেকড়, গুঁড়ি, ছাল, শুকনো পাতা, ফুল ও ফলের রঙ অনুসারে এর ছয়টি রঙ নির্দিষ্ট। তবে ভিক্ষুসংঘ সাধারণত লাল ফুলের রঙের বস্ত্রই বেশি ব্যবহার করে, যা সাধারণ গৃহীদের পরিধেয় বস্ত্র থেকে পৃথক ও বৈচিত্র্যহীন।

সকল ভিক্ষুই চীবর পরিধান করতে পারে না; যারা ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস সমাপ্ত করেছে কেবল তারাই চীবর ব্যবহার করতে পারে। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমার পূর্ব পর্যন্ত একমাস ব্যাপী এ চীবর দান অনুষ্ঠান পালিত হয়।

প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে বছরে একবার মাত্র এ চীবর দান করা হয়। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করে। ভিক্ষুসংঘও তাদের বিনয়-বিধানের সকল নিয়ম অক্ষুণ্ণ রেখে পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে এ চীবর গ্রহণ ও ব্যবহার করে। কঠিন চীবর দানের বহুধা গুণের কথা স্মরণে রেখে প্রত্যেক বৌদ্ধ জীবনে অন্তত একবার হলেও চীবর দান করার মানসিকতা পোষণ করে।

কঠিন চীবর দান, বৌদ্ধ ধর্মের একটি ধর্মীয় আচার, ও উৎসব, যা সাধারণত বাংলা চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী প্রবারণা পূর্ণিমা (ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা) পালনের এক মাসের মধ্যে যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে ত্রি-চীবর নামে বিশেষ পোশাক দান করা হয়।

ত্রি-চীবর হলো চার খণ্ডের পরিধেয় বস্ত্র, যাতে রয়েছে দোয়াজিক, অন্তর্বাস, চীবর ও কটিবন্ধনী। এই পোশাক পরতে দেয়া হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পোশাক বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব শান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা ও চীবর উৎসর্গ করা হয়। এসময় দুরদুড়ান্ত থেকে উপাসক উপাসিকারা ধর্মদেশনা শুনতে চীবর দান অনুষ্ঠানে সমবেত হন।


আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.