রাঙ্গামাটিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর সাপের কামড়ে মৃত্যু
চিরণ বিকাশ দেওয়ান: রাঙামাটি সদর উপজেলায় ২নং মগবান ইউনিয়নের কামিলা ছড়ি গ্রামে বিষধর সাপে কামড়ে সুইহিতা চাকমা নামে এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ১১ বছর ৫ মাস। সে বড়াদম সুরবালা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই প্রতিদিনের মত মায়ের সাথে মশারী টাংঙিয়ে মাটিতে ঘুমিয়েছিলেন সুইহিতা। হঠাৎ ভোর রাতে ৪ টা ৫০ মিনিটে চিৎকার করে উঠে সুইহিতা। ঘুম থেকে জেগে মা দেখলেন মশারী ভিতর হতে একটা বিষধর সাপ বেড়িয়ে যাচ্ছে। মেয়ের কান্নায় দেখা যায় পায়ের তালুতে সাপের কামড়ের দাগ। এরপর সুইহিতাকে সকাল ৬ টায় রাঙামাটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাড়ে ৭টায় তাকে কর্তব্যরত ডাক্তার ভর্তি করান।
সুইহিতার বাবা সোনামনি চাকমা, ও মা মেনোকা চাকমা জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর তার মেয়ে সুইহিতা ভাল ছিল। কথাবার্তা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। পরে নার্সরা স্যালাইন দিয়েছেন। একটা ইনজেশন দেওয়ার পর মেয়ে চটপট করতে থাকে। মুখে ফেনা চলে আসে।
পরে সুইহিতার অবস্থা খারাপ দেখে, ডাক্তার জানান, আমাদের এখানে সাপের ভ্যাকসিন নেই। চিটাগাং নিয়ে যান। মেয়েটির মা তখন তাড়াতাড়ি ছাড়পত্র চেয়ে পাহাড়ী ওঝার খবর নিতে থাকেন।
একজনের মাধ্যমে ওঝার খবর পেয়ে স্পীড বোডে করে সুইহিতাকে নেওয়ার পথে কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। ওঝার বাড়ি যখন পৌছেন তখন রোগীর প্রাণ ছিলনা বলে জানা জানান ওঝা। সেখান থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সুইহিতা বেঁচে নেই এমন খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি ও স্কুলের সহপাঠীদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। চারিদিকে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরে ২০ জুলাই নিজ বাড়ীতে বৌদ্ধধর্মের রীতিনিতে কামিলাছড়ি জনমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভান্তেকে নিয়ে চির বিদায়- দাহ সম্পাদন করা হয় ।
পিতা মাতার অভিযোগ হাসপাতালের ডাক্তারদের অবহেলা ও সময় নষ্ট করে দেওয়া ও স্যালাইন পুস করাতে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। পাহাড়ের গ্রামে এই ধরনের সাপের কামড়ে মৃত্যু হওয়াটা এক বিরল ঘটনা। যত বড় বিষধর সাপে দংশন করুক না কেন, পাহাড়ী ওঝা বৌদ্দ ধারা প্রচীন কাল থেকে চিকিৎসা সেবা করে আসচ্ছেন।
অনেক বছর পর পাহাড়ী এলাকায় সাপের কামড়ে কিশোরী ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। কেউ এটা মেনে নিতে পারছেন।